নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পূর্বানুমতি ছাড়াই ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একযোগে বদলি ও সংযুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ইসির অনুমতি ছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি আইনত নিষিদ্ধ হলেও এ ক্ষেত্রে সেই বিধান মানা হয়নি বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
গত ১৪ জানুয়ারি অধিদপ্তর থেকে জারি করা একটি প্রজ্ঞাপন ও পৃথক তিনটি অফিস আদেশের মাধ্যমে মোট ১৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দেশের বিভিন্ন দপ্তরে বদলি ও সংযুক্ত করা হয়।
অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে উপপরিচালক (প্রশাসন) তারিক সালমান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে ১১ জন কর্মচারীকে বদলি করা হয়। তাদের মধ্যে সুপারিনটেনডেন্ট, অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ও ডাটা এন্ট্রি অপারেটর রয়েছেন। এছাড়া পৃথক আরও দুটি আদেশে একজন সুপারিনটেনডেন্ট ও একজন অফিস সহকারীকে বদলি করা হয়।
অন্যদিকে, অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. নূরুল আনোয়ার স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পাঁচজন উপসহকারী পরিচালককে (ডিএডি) বিভিন্ন আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে পদায়ন করা হয়। তাদের মধ্যে মো. আব্দুস সাত্তারকে কুমিল্লা, মো. শাহাদৎ হোসেনকে ঝালকাঠি, মো. আবুল বাসারকে ভোলা, মোহাম্মদ আলিম উদ্দিন ভূঁঞাকে কুমিল্লা এবং শশীভূষণ বিশ্বাসকে নরসিংদীতে বদলি করা হয়।
বদলিকৃত কর্মকর্তাদের আগামী ২১ জানুয়ারির মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ‘স্বয়ংক্রিয় অবমুক্ত’ হিসেবে গণ্য করা হবে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো বদলির জন্য পাসপোর্ট অধিদপ্তর থেকে কমিশনের কাছে কোনো অনাপত্তি বা অনুমতি চাওয়া হয়নি।
গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি করতে হলে নির্বাচন কমিশনের লিখিত অনুমোদন বাধ্যতামূলক। আইন অনুযায়ী, কমিশনের অনুরোধের পরই কেবল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বদলি কার্যকর করতে পারে।
ইসির অনুমতি ছাড়াই একযোগে এত সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বদলিকে নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের শামিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এটি কমিশনের কর্তৃত্বকে উপেক্ষা করার পাশাপাশি নির্বাচনী প্রশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পাসপোর্ট অধিদপ্তর থেকে এ বিষয়ে কোনো অনুমতির আবেদন পাওয়া যায়নি। বিষয়টি কমিশনের নজরে এলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখার উপপরিচালক তারিক সালমান বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। ফাইল দেখে বলতে হবে।” পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।
ইসির অনুমতি ছাড়াই এই গণবদলিকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।