বড়দিন ও থার্টি ফার্স্ট নাইটে কোনো ধরনের আতশবাজি ফোটানো যাবে না। পাশাপাশি রাস্তা অবরোধ বা ব্লক করে কোনো অনুষ্ঠান আয়োজনও নিষিদ্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সভায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি, অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ–২-এর অগ্রগতি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন, বড়দিন ও থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি এবং জুলাইয়ের সম্মুখসারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি জানান, লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চলমান রয়েছে। গত ১৩ ডিসেম্বর শুরু হওয়া অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ–২-এর মাধ্যমে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ হাজার ৫৯৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে ৫৬টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৪৩৭ রাউন্ড গুলি, ১৩৭ রাউন্ড কার্তুজ, ৬২টি দেশীয় অস্ত্রসহ বিভিন্ন বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে। মামলা ও ওয়ারেন্টমূলে গ্রেপ্তারসহ মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৫০৫ জনে।
শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে সরকার বদ্ধপরিকর। কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে মূল হোতার পরিবারের সদস্যসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বড়দিন ও থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে নিরাপত্তা প্রস্তুতির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, উৎসব যেন ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হয়, সে জন্য প্রতিটি গির্জায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর গুলশান, বনানীসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। ট্রাফিক চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ঢাকা মহানগর পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
তিনি আরও বলেন, এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল, তল্লাশি ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কেপিআই স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদার, চেকপোস্ট বৃদ্ধি এবং সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।