নেপালকে তাদের মাটিতেই হারিয়ে গতকাল টানা দ্বিতীয়বার সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। আজ বাংলাদেশ সময় দুপুর আড়াইটার দিকে ট্রফি নিয়ে দেশে পা রাখেন সাবিনা-ঋতুপর্ণারা। এরপর সংবাদ সম্মেলন শেষে ছাদখোলা বাসে শুরু হয় বিজয় প্যারেড। এই বাসে করে বাফুফে ভবনে যাচ্ছেন মেয়েরা।
ছাদখোলা বাসের স্বপ্নদ্রষ্টা সানজিদা। ২০২২ সালে সাফের ফাইনালের আগে আবদার করেছিলেন, চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে যেন ছাদখোলা বাসের ব্যবস্থা করা হয়। তার সেই স্ট্যাটাসের পরই ছাদখোলা বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এবারও সাফের শিরোপা জিতেছেন বাংলার বাঘিনীরা। এবার সরাসরি ছাদখোলা বাস না চাইলেও, ফাইনালের আগে দুই বছর আগের সেই অভ্যর্থনার স্মৃতিচারণ করেন সানজিদা।
আগেরবারের মতো এবারও তাদের ছাদখোলা বাসে সংবর্ধনা দিচ্ছে বাফুফে। সেই ছাদখোলা বাসে উঠেই দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সানজিদা। নিজের ফেসবুকে সানজিদা লিখেন, ‘ছাদখোলা বাসে। স্বপ্নিল যাত্রা। ধন্যবাদ দেশবাসী।’
ছাদখোলা বাসের গতবারের থেকে এবারের চিত্র কিছুটা আলাদা। দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে সাফজয়ীদের বাসেও। চ্যাম্পিয়নদের ছবি দিয়ে বাস সাজানো হয়েছে। গতবার সাফ চ্যাম্পিয়নদের জন্য বাসের ব্যবস্থা করেছিল ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। তাতে বাসে ফুটবলারদের পাশাপাশি ছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের ছবি। তাতে সমালোচনা হয়েছিল অনেক। অনেকেই বিষয়টি অপ্রাসঙ্গিক বলে মন্তব্য করেছিলেন। যদিও এসব সমালোচনা কানে তুলেননি বাফুফের তৎকালীন সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনসহ তার ফেডারেশনের কর্তারা।
তবে ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর বাংলাদেশে বদলে গেছে অনেক কিছুই। বদল এসেছে বাফুফের কমিটিতেও। প্রায় দেড় যুগ পর নতুন সভাপতি পেয়েছে বাফুফে। এই বদলে যাওয়া বাংলাদেশে পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে বাফুফের মানসিকতাতেও। এবার ছাদখোলা বাসে শুধুই চ্যাম্পিয়ন মেয়েদের ছবি। চ্যাম্পিয়ন ট্রফির সঙ্গে অফিসিয়াল ফটোসেশনের সবাইকে রাখা হয়েছে। শুরুর একাদশে থাকা দলের ছবিও আছে। সেইসঙ্গে আছে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে গোল্ডেন বল জেতা ঋতুপর্না চাকমার ট্রফি গ্রহণের ছবিও।
ঋতুপর্ণা চাকমার ছবির উপরে রয়েছে কয়েকটি লোগো। নারী ফুটবলে দীর্ঘদিনের স্পন্সর ঢাকা ব্যাংক। সেই ২০১৬ সাল থেকে নারী ফুটবলের সঙ্গে এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি রয়েছে। বিশেষ এই উপলক্ষ্যে বাফুফে স্মরণ করেছে তাদের। বেভারেজ পার্টনার পুষ্টি, ট্যাকনিক্যাল পার্টনার আমরাও বছরব্যাপী বাফুফেকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে। তাই তাদের লোগোও আছে বিশেষ এই স্থানে।
সেই বাসের ছবি প্রকাশ্যে আসতেই প্রশংসায় ভেসেছেন বাফুফের বর্র্তমান কমিটির কর্তারা। এমনকি অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে তাদেরকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।