বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। ফুসফুসে সংক্রমণ ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তাঁর নিউমোনিয়া ধরা পড়ে। এর পাশাপাশি কিডনি, লিভার, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসসহ দীর্ঘদিনের নানা জটিলতা থাকায় চিকিৎসা জটিল হয়ে উঠেছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, একটি রোগের চিকিৎসা দিতে গেলে আরেকটির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থাকে ‘অত্যন্ত সংকটপূর্ণ’ বলে জানিয়েছেন। তিনি জানান, গত দুই দিনে কোনো উন্নতি হয়নি। বিদেশে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে চিকিৎসকেরা আলোচনা করছেন।
গত রোববার শ্বাসকষ্ট বাড়লে খালেদা জিয়াকে দ্রুত রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁকে ভর্তি করা হয় এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে কেবিন থেকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞ নিয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাঁর চিকিৎসা করছে।
এদিকে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন এবং চিকিৎসায় যেন কোনো ঘাটতি না থাকে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন।
হাসপাতালের সামনে নেতা–কর্মীদের ভিড় বাড়ছে। দলটির নেতারা নিয়মিত হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলছেন, যদিও সংক্রমণের ঝুঁকির কারণে সিসিইউতে প্রবেশ করতে পারছেন না।
প্রায় ৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুস, কিডনি, লিভারসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। গত জানুয়ারিতে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গেলেও কয়েক মাস পর আবার দেশে ফেরেন। এরপর থেকেই বারবার শারীরিক জটিলতার কারণে হাসপাতালে যেতে হচ্ছে তাঁকে।
খালেদা জিয়ার জন্য বিএনপি সারা দেশে দোয়ার আয়োজন করেছে। নেতারা বলছেন, গণতন্ত্রের ‘প্রতীক’ হিসেবে তাঁর সুস্থতা দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।