রাজধানীর বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) আজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো–২০২৬। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই প্রযুক্তি প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে তিনি ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’–এর ওয়েবসাইট ও লোগো উন্মোচন করেন।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ (বিএইচটিপিএ) এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)-এর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই এক্সপো চলবে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘ক্রিয়েট হিয়ার, কানেক্ট এভরিহোয়ার’ শীর্ষক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়, যেখানে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ডিজিটাল উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধান উপদেষ্টা প্রদর্শনীর বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং প্রদর্শিত প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী পণ্য সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।
এই এক্সপোর মূল লক্ষ্য হলো—প্রযুক্তিখাতে উদ্ভাবন উৎসাহিত করা, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, দেশীয় সাফল্য তুলে ধরা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা। প্রদর্শনীতে উদ্ভাবনী প্রযুক্তিপণ্য, ডিজিটাল ডিভাইস, মোবাইল প্রযুক্তি, ই-স্পোর্টসসহ নানা আধুনিক সেবা প্রদর্শন করা হচ্ছে। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে বিভিন্ন পণ্যে বিশেষ ছাড় ও আকর্ষণীয় অফার।
চারদিনব্যাপী এই এক্সপোতে ডিজিটাল রূপান্তর, বৈশ্বিক বিনিয়োগ, স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম, ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার, ডিজিটাল ডিভাইস অর্থায়ন, ইনোভেশন ইকোসিস্টেমে বৈষম্য কমানো, ডিপ-টেক ভ্যালু চেইন, উৎপাদন ও রপ্তানি ভিশন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল রূপান্তর বিষয়ে মোট পাঁচটি সেমিনার ও চারটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
এক্সপোতে প্রবেশ সবার জন্য উন্মুক্ত। অনলাইনে কিংবা সরাসরি নিবন্ধনের মাধ্যমে দর্শনার্থীরা অংশ নিতে পারবেন। স্যাটেলাইট ইন্টারনেট প্রযুক্তির মাধ্যমে পুরো ভেন্যুতে উন্নত মানের ওয়াই-ফাই সুবিধাও নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিভিন্ন শিল্পখাত, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অত্যাধুনিক উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনের মাধ্যমে এই এক্সপোকে দেশের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সুত্রঃবাসস