বরিশালের মুলাদী উপজেলায় সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে একটি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র এবং হাতবোমা তৈরির বিস্ফোরক ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নারীসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে মুলাদী উপজেলার আরিফ মাহমুদ ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মুলাদী সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর তৌফিক।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে বুধবার ভোর ৬টা পর্যন্ত উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল সফিপুর ইউনিয়নের বালিয়াতলী ও মন্তাজপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে হিজলা সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর জাহিদের নেতৃত্বে ৩০ জন এবং মুলাদী সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর তৌফিকের নেতৃত্বে ৫৫ জন—মোট ৮৫ জন সেনাসদস্য অংশ নেন। অস্ত্র ও মাদকবিরোধী যৌথ অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালিত হয় বলে জানায় সেনাবাহিনী।
অভিযানকালে একটি রিভলবার, বিপুল পরিমাণ রামদা ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি হাতবোমা তৈরিতে ব্যবহৃত বিস্ফোরক দ্রব্য ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—
বালিয়াতলী গ্রামের ইব্রাহীম তালুকদারের ছেলে জোবায়ের তালুকদার (২৬),
দাদন হাওলাদারের ছেলে ইয়াকুব হাওলাদার (২৫),
মন্তাজপুর গ্রামের রহিম হাওলাদারের ছেলে রহমাতুল্লাহ (২৫),
পশ্চিম বালিয়াতলী গ্রামের মৃত নাসির হাওলাদারের ছেলে তোফাজ্জেল (২৫),
উত্তর বালিয়াতলী গ্রামের মৃত আনিচ হাওলাদারের ছেলে নয়ন হাওলাদার (২৫),
নেকমত আলী ব্যাপারীর ছেলে লাবন ব্যাপারী (২৮),
মোকলেছুর রহমান সরদারের মেয়ে মোরশেদা (৪৫)
এবং সরোয়ার হোসেনের মেয়ে মিতু (২০)।
সংবাদ সম্মেলনে মেজর তৌফিক আরও বলেন, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি জানান, এলাকায় অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম নির্মূলে সেনাবাহিনীর এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।