আদমপুর নতুন বাজার মসজিদ এলাকায় ৯ বছর ধরে “আল করিম ফার্মেসি” চলছিলো। এরমধ্যেই ভুয়া ডিগ্রি নিয়ে রোগী দেখায় গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে অভিযান চালিয়ে এক ভুয়া চিকিৎসককে তিন মাসের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযুক্ত সেই ব্যক্তির নাম মো. রেজাউল করিম শেখ (৪২)।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার আহমেদ এ আদেশ দেন। এ সময় উপজেলার আদমপুর নতুন বাজারে অবস্থিত ওই চিকিৎসকের আল করিম নামের ফার্মেসিটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।
জানা গেছে, সাজাপ্রাপ্ত মো. রেজাউল করিম শেখ মুকসুদপুর উপজেলার আদমপুর গ্রামের আতর আলীর ছেলে। ব্যবস্থাপত্রে তার নামের আগে ডাক্তার লেখা হয়েছে। নামের পরে ডি.এম.এ ঢাকা ডিগ্রি যুক্ত করা হয়েছে। তিনি কোমর, বাত, হাঁটু ব্যথা, চর্ম, এলার্জি, ডায়াবেটিস, মা ও শিশু স্বাস্থ্য মেডিসিনে অভিজ্ঞ বলে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন প্রকার অপারেশন ও দাঁত তোলায় বিশেষ অভিজ্ঞ বলেও সেখানে লিখে রেখেছেন।
আদমপুর বাজারের বাসিন্দা তাইজুল হোসেন জানান, রেজাউল করিম ৯ বছর আগে আদমপুর নতুন বাজার মসজিদ এলাকায় আল করিম ফার্মেসি শুরু করেন। পরে তিনি সেখানে চেম্বার খুলে ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহার করে রোগী দেখে ব্যবস্থাপত্র দেওয়া শুরু করেন। এছাড়া চেম্বারে রোগী ভর্তি করে অস্ত্রোপচার করে আসছিলেন।
মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রায়হান ইসলাম শোভন বলেন, মো. রেজাউল করিম শেখের কোনো চিকিৎসা সনদ বা প্রশিক্ষণ নেই। তিনি নামের আগে ডাক্তার শব্দ ব্যবহার করেছেন। রোগী দেখে ব্যবস্থাপত্র লিখে দিতেন। তিনি রোগী ভর্তি রেখে অস্ত্রোপচারও করতেন। অস্বাস্থ্যকর টিনশেডের চেম্বারে রোগী ভর্তি রাখতেন। তিনি তার চেম্বারের ফার্মেসিতে লাইসেন্সবিহীন ওষুধও বিক্রি করতেন। এছাড়া তার ফার্মেসিতে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ মজুত ছিল।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আরও বলেন, সমস্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ৩ মাসের কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানা করেন।