ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখকে গ্রেপ্তারে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন র্যাবের মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি এ কে এম শহিদুর রহমান। তিনি বলেন, এই দুই আসামিকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত র্যাবের অভিযান চলবে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র্যাব ডিজি। তিনি বলেন, গত ১২ থেকে ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি পিস্তলও উদ্ধার করা হয়। তবে মামলার মূল আসামি ফয়সাল ও আলমগীর এখনো পলাতক রয়েছে।
ফয়সাল ও আলমগীর ভারতে পালিয়ে গেছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে র্যাব ডিজি জানান, প্রযুক্তিগত ও ম্যানুয়াল সোর্স ব্যবহার করে তাদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে। অবস্থান নিশ্চিত হলে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সব আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, দেশের বাইরে পালালেও আসামিকে ফিরিয়ে আনার একাধিক আইনগত উপায় রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন র্যাব ডিজি। তিনি জানান, গত ১৮ ডিসেম্বর ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে উত্তেজিত জনতার হাতে দিপু চন্দ্র দাস নিহত হওয়ার ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া ১৭ ডিসেম্বর খুলনা আদালত প্রাঙ্গণে সংঘটিত জোড়া খুনের ঘটনায় ছায়া তদন্তের মাধ্যমে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
তিনি আরও জানান, যশোরের বাঘারপাড়া থেকে ১৪টি ককটেলসহ একজন নাশকতাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কেরানীগঞ্জে একটি মাদরাসায় বিস্ফোরণের ঘটনায় পাঁচটি ককটেল, হাইড্রোজেন পার-অক্সাইডসহ বিভিন্ন কেমিক্যাল উদ্ধার করা হয়েছে এবং মূল আসামি আল-আমিনসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবনে হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান র্যাব মহাপরিচালক।