মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল রবিবার বলেছেন, রাজধানী ওয়াশিংটনকে ‘আরো নিরাপদ ও সুন্দর’ করতে হলে গৃহহীনদের অবিলম্বে সরিয়ে নিতে হবে এবং তা রাজধানী থেকে অনেক দূরে। সম্প্রতি তিনি দাবি করেছেন, শহরটিতে অপরাধ বেড়েছে এবং ফেডারেল সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথা ভাবছেন।
রবিবার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমাদের রাজধানীকে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে নিরাপদ ও সুন্দর করে তুলব। গৃহহীনদের অবিলম্বে চলে যেতে হবে।
আমরা তাদের থাকার জায়গা দেব, তবে তা রাজধানী থেকে অনেক দূরে।’
তিনি আরো হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, রাজধানীতে অপরাধীদের দ্রুত কারাগারে পাঠানো হবে এবং এসব পদক্ষেপ খুব দ্রুতই বাস্তবায়িত হবে।
ট্রাম্প সোমবার একটি প্রেস কনফারেন্সের ঘোষণা দিয়েছেন, যেখানে তিনি ওয়াশিংটন নিয়ে পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওয়াশিংটন ডিসির স্থানীয়ভাবে নির্বাচিত সরকার রয়েছে, তবে এটি কংগ্রেসের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয় — এই ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পের বিরক্তির কারণ হয়ে উঠেছে।
বর্তমান সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শহরগুলোর মধ্যে গৃহহীনতার দিক থেকে ওয়াশিংটনের অবস্থান ১৫তম। যদিও প্রতিদিন হাজারো মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র বা রাস্তায় রাত কাটান, তবে মহামারির আগের তুলনায় সংখ্যা কিছুটা কমেছে।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, তিনি রাজধানীতে জাতীয় রক্ষী (ন্যাশনাল গার্ড) মোতায়েন করবেন। যদিও ওয়াশিংটনে সহিংস অপরাধ ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে আগের বছরের তুলনায় ২৬ শতাংশ কমেছে।
ন্যায়বিচার বিভাগের পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২৪ সালে শহরটির অপরাধের হার গত তিন দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন ছিল।
ওয়াশিংটনের ডেমোক্র্যাট মেয়র মুরিয়েল বাউসার বলেন, ‘আমরা কোনো অপরাধ বৃদ্ধির মুখোমুখি হচ্ছি না।’ তিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সরাসরি সমালোচনা না করলেও বলেন, ‘যুদ্ধবিধ্বস্ত কোনো দেশের সঙ্গে তুলনা করাটা অতিরঞ্জিত ও মিথ্যা।’
এর আগে ট্রাম্প স্থানীয় নেতাদের আপত্তি সত্ত্বেও ক্যালিফোর্নিয়ার সামরিক রিজার্ভ বাহিনী লস অ্যাঞ্জেলেসে মোতায়েন করেন, যেখানে অভিবাসনবিরোধী অভিযান নিয়ে বিক্ষোভ চলছিল। ট্রাম্পের সমালোচকরা বলছেন, তিনি প্রায়ই ডেমোক্রেট-শাসিত শহরগুলোতে সামরিক হস্তক্ষেপের কথা বলেন, যা তার জাতীয়তাবাদী প্রবণতার অংশ।
সূত্র : খালিজ টাইমস।