সড়ক দুর্ঘটনার একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা আজও আলিয়া ভাটকে নাড়া দেয়। গাড়ির পেছনের আসনে বসে থাকলেও তিনি নিয়মিত সিটবেল্ট পরেন। রাস্তায় চলাচলের সময় এক ধরনের শঙ্কা কাজ করে তার মধ্যে। কারণ, একটি সড়ক দুর্ঘটনায় একসময় তিনি হারিয়েছেন তার খুব কাছের একজনকে।
সম্প্রতি ভারতে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক এক অনুষ্ঠানে অংশ নেন আলিয়া ভাট। সেখানে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অমিতাভ বচ্চন ও ভিকি কৌশল। অনুষ্ঠানে নিজের জীবনের বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এই অভিনেত্রী।
আলিয়া জানান, মাত্র ১২ বছর বয়সে তিনি তার ন্যানিকে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় হারান। ওই নারী তার দেখাশোনা করতেন এবং পরিবারের সদস্যের মতোই ছিলেন। আলিয়ার ভাষায়, তিনি শুধু ন্যানি নন, দিদির মতো একজন মানুষ ছিলেন।
ঘটনার বর্ণনায় আলিয়া বলেন, একদিন তার ন্যানি সঙ্গীর সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে মন্দিরে যাচ্ছিলেন। সঙ্গীর মাথায় হেলমেট থাকলেও ন্যানির মাথায় হেলমেট ছিল না। পথে একটি ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে তিনি ছিটকে পড়ে যান এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এই দুর্ঘটনা আলিয়ার মনে গভীর প্রভাব ফেলে। দীর্ঘদিন আতঙ্কে ভুগেছেন তিনি। এরপর পরিবারে নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়। আলিয়ার মা সব সময় তাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকতেন। এমনকি গাড়িচালককে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল—সিটবেল্ট ছাড়া গাড়ি চালালে চাকরি থাকবে না।
আলিয়া বলেন, এখন নিজে মা হওয়ার পর সেই সময়কার ভয়, উদ্বেগ ও নিরাপত্তার গুরুত্ব আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারছেন তিনি। তার ভাষায়, ‘এখন মা হয়ে এসব বিষয় আরও ভালোভাবে বুঝতে পারি।’
বর্তমানে আলিয়া ভাট তার জীবনের নতুন এক অধ্যায় পার করছেন। পেশাগত ব্যস্ততার পাশাপাশি তিনি উপভোগ করছেন কন্যা রাহাকে ঘিরে মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা। এর আগে আলিয়া জানিয়েছিলেন, মেয়ের জন্মের পর তিনি ও রণবীর কাপুর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—রাহাকে কখনো একা রাখা হবে না। একজন কাজ করলে অন্যজন ছুটি নিয়ে সন্তানের পাশে থাকবেন।