ফরিদপুর-২ (সালথা ও নগরকান্দা) আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে গত ২০ নভেম্বর তিনি নাগরিকত্ব ছাড়েন। নির্বাচন কমিশনে ২৮ ডিসেম্বর দাখিল করা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত হলফনামা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
হলফনামায় শামা ওবায়েদ নিজেকে ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি অ্যালিউর বিল্ডার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অ্যাভোসিল্ক সলিউশনের চেয়ারম্যান এবং ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কো-অপারেশন ফাউন্ডেশনের জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথা জানিয়েছেন।
হলফনামা অনুযায়ী, শামা ওবায়েদের বার্ষিক আয় ২১ লাখ ৮৯ হাজার ৭১ টাকা। এর মধ্যে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া থেকে ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে ৪৬ হাজার ৪০৪ টাকা, চাকরি থেকে ৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬৬৭ টাকা এবং সম্মানী ভাতা ৯৬ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে।
অস্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য তিনি দেখিয়েছেন ৩ কোটি ৬২ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৬ টাকা এবং বর্তমান আনুমানিক মূল্য ৪ কোটি ৩৭ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৬ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে নগদ অর্থ, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা, শেয়ার ও বন্ডে বিনিয়োগ এবং একটি জিপ গাড়ি। এ ছাড়া ৫০ তোলা সোনা থাকার কথা উল্লেখ করা হলেও এর মূল্য দেখানো হয়নি।
স্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে অর্জনকালীন মূল্য ৬ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং বর্তমান আনুমানিক মূল্য ৯ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ৪৫০ শতাংশ অকৃষিজমি এবং ঢাকার বনানীতে ৩ হাজার ২৪৫ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। তবে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির কোনো মূল্য উল্লেখ করা হয়নি।
২০১৮ সালে দাখিল করা হলফনামার সঙ্গে তুলনা করে দেখা যায়, গত সাত বছরে শামা ওবায়েদের মোট আয় কমেছে ৮ লাখ ১৭ হাজার ৭৫৪ টাকা। একই সময়ে তাঁর অস্থাবর সম্পত্তি বেড়েছে ২ কোটি ৯ লাখ ৩ হাজার ৫১৯ টাকা, আর স্থাবর সম্পত্তি কমেছে ১০ লাখ টাকা।
এ ছাড়া ২০১৮ সালে তাঁর নামে ব্যাংকঋণ থাকলেও বর্তমান হলফনামায় কোনো ঋণের তথ্য নেই। সোনার পরিমাণও ৬০ তোলা থেকে কমে বর্তমানে ৫০ তোলা দেখানো হয়েছে।