স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেছেন, কারা প্রশাসনে নিরাপত্তা ও মানবাধিকার একে অপরের পরিপূরক। কারাগারে বন্দিদের মৌলিক মানবাধিকার সংরক্ষণপূর্বক সংশোধিত নাগরিক হিসেবে সমাজে ফিরিয়ে দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
আজ মঙ্গলবার সকালে গাজীপুরের কাশিমপুর কারা ক্যাম্পাসে অবস্থিত কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্যারেড গ্রাউন্ডে ৬৩তম ব্যাচ মহিলা কারারক্ষী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, কারাগারে বন্দিদের প্রতি মানবিক আচরণ, ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা প্রদান, বৈষম্যহীনতা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা শুধু আইনগত বাধ্যবাধকতা নয়, এটি রাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থার প্রতিফলন। তাই কারারক্ষীদের প্রশিক্ষণ ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, কারাগার ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং অপরাধ দমন, সংশোধন ও সামাজিক পুনর্বাসনের প্রক্রিয়ায় এর ভূমিকা অপরিসীম। বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক কারা প্রশাসন গঠনে কারারক্ষীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেন, দুর্নীতি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু। কোনো কারা সদস্য ব্যক্তিস্বার্থ, লোভ বা রাজনৈতিক সুবিধার জন্য কাজ করলে সে শুধু আইন ভাঙে না, রাষ্ট্রকেও দুর্বল করে। কারা সদস্যরা রাষ্ট্রের জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতনভুক্ত সরকারি কর্মচারী; তাই জনকল্যাণই তাদের একমাত্র ব্রত হওয়া উচিত।
অনুষ্ঠানে মহিলা কারারক্ষীরা শারীরিক কসরত ও ডিসপ্লে প্রদর্শন করেন। ৬৩তম ব্যাচের মহিলা কারারক্ষীদের মধ্যে ড্রিলে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন লিজা খাতুন, পিটিতে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন মোছা. রায়হানা আক্তার সুবর্ণা, আন আর্মড কম্ব্যাটে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন জুথি পারভীন এবং ফায়ারিংয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন মানসুরা। একাডেমিসহ সর্ব বিষয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন মোছা. রায়হানা আক্তার সুবর্ণা।