তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। দলের নেতাকর্মীদের কাছে তিনি আপসহীন নেত্রী। ১৯৮১ সালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা এবং তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর আসেন দলের নেতৃত্বে। সেই থেকে দেশের রাজনীতিতে অবিচ্ছেদ্য এক নাম বেগম খালেদা জিয়া।
দীর্ঘদিন শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছেন খালেদা জিয়া। ফলে রাজনীতির মাঠে আগের মতো সরাসরি সক্রিয় নন তিনি। দলীয় কর্মসূচিগুলোতে থাকতে পারছেন না সশরীরে। তবে দলীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও কৌশলগত পরামর্শে পরোক্ষভাবে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন তিনি। রাজনীতিতে তার ‘নীরবে অন্তরালের কূটনীতি’ এখনও দলের বড় আত্মবিশ্বাসের জায়গা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে বয়স্ক ও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের অন্যতম খালেদা জিয়া। বয়স ও অসুস্থতার কারণে হয়তো বিএনপির রাজনীতিতে এখন সশরীরে তার সক্রিয় উপস্থিতি নেই। কিন্তু দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব, দূরদর্শিতা এবং কৌশলগত কূটনীতির কারণে এখনও তিনি দেশের রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন।
বিএনপি নেতারা বলছেন, বেগম খালেদা জিয়া এখন আর ‘অ্যাকটিভ রাজনীতিতে’ নেই। তবে, যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে প্রয়োজন অনুযায়ী তার সঙ্গে পরামর্শ করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ ছাড়া দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিয়মিত বিরতিতে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং নানা পরামর্শ নেন। দলের কৌশল নির্ধারণের ক্ষেত্রে অনেক সময়েই তিনি দিকনির্দেশনা নিয়ে থাকেন। তার অভিজ্ঞতা এবং সিদ্ধান্ত এখনও দলের ভেতরে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
২০১৮ সালে ‘মিথ্যা মামলায়’ দণ্ড দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠায়। তিনি কারাগারে যাওয়ার পর থেকে উত্তরসূরি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। ২০২০ সালের ২৫ মার্চ তৎকালীন সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে খালেদা জিয়াকে বাসায় থাকার অনুমতি দেওয়া হলেও শর্ত অনুযায়ী সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন তিনি। কিন্তু তাতে দলীয় রাজনীতিতে তার উপস্থিতি থেমে যায়নি।
গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দণ্ড মওকুফ করে মুক্তি দেন। তারপর থেকে বিভিন্ন সভা-সভাবেশে ভিডিও বার্তা দিচ্ছেন দলীয় নেতাকর্মী ও দেশবাসীর উদ্দেশ্য। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরাও তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন।