জামায়াত ইসলামীর রাজনীতি ও ধর্মের অপব্যবহারের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “জামায়াতের টিকিট কাটলে জান্নাতের টিকিট কাটা হবে এটা কোথায় আছে, দেখিয়ে দিক। ধর্মকে রাজনৈতিক ফায়দার জন্য ব্যবহার করা ইসলাম সমর্থন করে না।”
শনিবার দুপুরে রাজধানীর আইডিইবির মাল্টিপারপাস হলে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কেয়ারটেকার কল্যাণ পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
ফখরুল বলেন, একসময় জিয়াউর রহমান জামায়াতকে রাজনীতিতে দাঁড়ানোর সুযোগ দিয়েছিলেন এবং বিএনপিও তাদের সঙ্গে কাজ করেছে। তবে গত ১০ বছরে শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে জামায়াত কোনো দৃশ্যমান ভূমিকা রাখেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, যারা এতদিন সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) নিয়ে জোরালো অবস্থানে ছিলেন, এখন নির্বাচনের আগে সুর নরম করেছেন। মানুষ পিআর বা গণভোটের মতো বিষয়গুলো বুঝতে পারছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শেখ হাসিনা সরকারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, “গত ১৫–১৬ বছরে জনগণের ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের অধিকার, এমনকি ধর্ম পালনের অধিকারও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। অথচ তারা দাবি করে ইসলামের পক্ষে কাজ করেছে—এটা দেখলে আরও কষ্ট হয়।” তিনি অভিযোগ করেন, দেশের কিছু আলেম–ওলামাও ক্ষমতার কাছে নতি স্বীকার করছেন।
ইন্দোনেশিয়ার উদাহরণ তুলে ফখরুল বলেন, সেখানে সরকারের যে দলই ক্ষমতায় থাকুক, শক্তিশালী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাদ দিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয় না—বাংলাদেশে এমন কাঠামো নেই।
আগামী নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের কথা জানিয়েছেন। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার ও পার্লামেন্টই জাতীয় সমস্যার সমাধান করতে পারবে।