ইরানের সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তরুণ এরফান সোলতানির ফাঁসির আদেশ স্থগিত করেছে দেশটির সরকার। তার পরিবারের সদস্য এবং নরওয়েভিভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হেনগাও-এর বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
২৬ বছর বয়সী এরফান সোলায়মানি পেশায় একজন দোকান ব্যবসায়ী। তিনি রাজধানী তেহরানের উপকণ্ঠ কারাজ এলাকায় বসবাস করতেন। গত ৮ জানুয়ারি সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর মাত্র তিন দিনের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।
সোলতানির বিচারপ্রক্রিয়ায় তার পরিবারের কোনো সদস্য কিংবা ঘনিষ্ঠজনকে উপস্থিত থাকতে দেওয়া হয়নি। এমনকি তার বোন, যিনি একজন নিবন্ধিত ও পেশাদার আইনজীবী, তাকেও আদালতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে।
বুধবার সোলতানির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা থাকলেও তা কার্যকর হয়নি। সোলতানির আত্মীয় সোমায়েহ নামের এক নারী সিএনএনকে জানান, “আমরা জানতে পেরেছি যে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে দণ্ড বাতিলের ঘোষণা আসেনি। আমরা বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষায় আছি।”
পরবর্তীতে মানবাধিকার সংস্থা হেনগাও নিশ্চিত করে যে এরফান সোলতানির মৃত্যুদণ্ড আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।
এদিকে, ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে এক মতবিনিময় সভায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আমরা নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানতে পেরেছি যে ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ করা হয়েছে এবং আটক ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনাও স্থগিত রাখা হয়েছে।”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এরফান সোলতানির মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের খবর প্রকাশ পায়।