জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের সরকারি বাসভবন একীভূত করে নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন করার প্রস্তাব দিয়েছিল সরকারের একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি। তবে এই প্রস্তাবসহ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা বা হেয়ার রোডের ২৪ ও ২৫ নম্বর বাংলো কোনোটিকেই এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন কোথায় হবে তা আগামী সরকারই নির্ধারণ করবে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সর্বশেষ আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রী থাকতেন গণভবনে। কিন্তু গত বছরের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর গণভবনে ব্যাপক ভাঙচুর হয়। পরে সেটিকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা। নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্ধারণে গত ৭ জুলাই গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। প্রথমে যমুনা ও হেয়ার রোডের বাংলো ব্যবহার বা সংসদ চত্বরের স্পিকার–ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন একীভূত করার প্রস্তাব ওঠে। সেপ্টেম্বর মাসে কমিটি ভবন দুটি পরিদর্শনও করে।
কিন্তু লুই আই কানের নকশা লঙ্ঘন এবং ভবিষ্যৎ স্পিকার–ডেপুটি স্পিকারের আবাসন সংকটসহ নানা জটিলতার কারণে সংসদ এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন তৈরির উদ্যোগ থেকে সরকার সরে আসে। পাশাপাশি নতুন বাসভবনের সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্যও বড় পরিসরের ব্যবস্থা দরকার হবে যা স্বল্প সময়ে সম্ভব নয়।
নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্মাণ করতে হলে প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় অথবা সংসদ সচিবালয়কে। কিন্তু ২০২৫–২৬ অর্থবছরের মূল এডিপি, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এডিপি কিংবা সংসদ সচিবালয়ের এডিপি কোনোটিতেই এ বিষয়ে কোনো প্রকল্প নেই। ফলে আপাতত নতুন বাসভবন নির্মাণের কাজ শুরু হচ্ছে না।
গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পরবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারই সিদ্ধান্ত নেবে নতুন প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন কোথায় হবে।