পদ্মার ভয়াল ভাঙনে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার তিনটি গ্রাম পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে। আহম্মদ মাঝিকান্দি, মনসুর মোল্যা কান্দি ও আলীম উদ্দিন বেপারী কান্দি—এই তিন গ্রামের অস্তিত্ব এখন শুধু স্মৃতিতে। গত দুই বছরে নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে ৭০০ পরিবারের বসতবাড়ি, ২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি কমিউনিটি ক্লিনিক ও প্রায় সাড়ে ৪ হাজার বিঘা ফসলি জমি।
স্থানীয় বাসিন্দা মোসলেম শেখ (৬৫) বলেন, “এইখানে আমার বাড়ি আছিল… এখন শুধু পানি আর নদী।” এক মাস আগেই তার ২০ শতাংশ জমি ও বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়।
২০১০ সালে চর জেগে ওঠার পর স্থানীয়রা সেখানে নতুন বসতি গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু ২০২৩ সাল থেকে শুরু হওয়া ভাঙনে ধীরে ধীরে সবকিছু নদী গিলে নেয়। গত জুলাই থেকে আবারও তীব্র ভাঙন শুরু হয়; ২৮ আগস্ট পদ্মায় হারিয়ে যায় রিজিয়া আমিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি কমিউনিটি ক্লিনিক।
গৃহহীন পরিবারগুলো কেউ আশ্রয় নিয়েছেন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের (বিবিএ) জমিতে, কেউ বা আশপাশের গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছেন। তবে বিবিএ’র জমিতে থাকা পরিবারগুলোকে জমি ছাড়ার নোটিশ দেয়া হয়েছে।
আশ্রয়হীন কৃষক হাসেম মৃধা (৬৭) বলেন, “আগে ছিল ৭ বিঘা ফসলি জমি, ৩ বিঘায় বাড়ি। এখন কিছুই নাই। বউ-সন্তান নিয়া সরকারি জমিতে আছি। সামনের দিন কেমনে কাটুম, কিচ্ছু জানি না।”
স্থানীয়রা বলছেন, পদ্মার ভাঙন রোধে টেকসই ব্যবস্থা না নিলে পুরো অঞ্চলই ধীরে ধীরে নদীর গর্ভে হারিয়ে যাবে।