বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, আর ‘না’ মানে গোলামি। ভোটের দিন বুথে ঢুকে প্রথম ভোটটি দিতে হবে ‘হ্যাঁ’-তে। ‘হ্যাঁ’ জিতলে বাংলাদেশ জিতবে, ফ্যাসিবাদ আর ফিরে আসবে না। দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির কবর রচিত হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে গতকাল চুয়াডাঙ্গা টাউন ফুটবল মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে আরেকটি বিপ্লব ঘটাতে হবে। চব্বিশের ৫ আগস্টের বিপ্লব ছিল বুলেটের বিরুদ্ধে, আর এবার হবে ব্যালটের বিপ্লব—ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার বিপ্লব। চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও টেন্ডারবাজি বন্ধ করতে হলে এই পরিবর্তন অপরিহার্য।
চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াত আমির ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্যপ্রার্থী অ্যাডভোকেট রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগাসহ জোটের অন্যান্য নেতারা।
জামায়াত আমির বলেন, ভোটের দিন দুটি ভোট হবে—একটি সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট এবং আরেকটি পরিবর্তনের বাংলাদেশের পক্ষে ভোট। ‘হ্যাঁ’ জিতলে বাংলাদেশ জিতবে, আর ‘হ্যাঁ’ হেরে গেলে বাংলাদেশ হেরে যাবে।
তিনি বলেন, দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, দখলবাজ, নারী নির্যাতনকারী এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান চিরতরে লালকার্ড।
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, গত ৫৪ বছরের রাজনীতি দেশকে অন্ধকার গলিতে ঠেলে দিয়েছে এবং কোনো কোনো রাষ্ট্রের তাবেদারে পরিণত করেছে। যুবসমাজ আর সেই বাংলাদেশ দেখতে চায় না। আবু সাঈদ ও আবরার ফাহাদের আত্মত্যাগ দেশবাসীর কাছে একটি পবিত্র আমানত।
তিনি বলেন, দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে জনপ্রতিনিধিরা মালিক নয়, জনগণের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। কোনো জনপ্রতিনিধির সম্পদ অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে দেওয়া হবে না। প্রতি বছর নিজেদের ও পরিবারের সম্পদের হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশ করতে হবে।
যুবসমাজের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকারি খরচে তিন মাস থেকে এক বছর মেয়াদি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে যুবকদের আত্মমর্যাদাশীল জীবন নিশ্চিত করা হবে।
নারীদের বিষয়ে তিনি বলেন, মেয়েদের উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত ব্যয় সরকার বহন করবে। নারীদের সম্মান, নিরাপত্তা ও মর্যাদা ঘরে, বাইরে ও কর্মস্থলে নিশ্চিত করা হবে।
বক্তব্যের শেষাংশে জামায়াত আমির বলেন, রাজনীতি নীতির খেলা। সিদ্ধান্ত নেবে জনগণ। আমরা জনগণের রায়ের প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখি। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ, সবার জন্য ন্যায়বিচার এবং জনগণের চাওয়া অনুযায়ী বদলে যাওয়া বাংলাদেশ গড়তেই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে।
সুত্রঃ বাসস