জাপানের ওসাকা শহরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্ব প্রদর্শনী ওসাকা এক্সপো–২০২৫, যা শুরু হয় ১৩ এপ্রিল এবং চলবে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত। ছয় মাসব্যাপী এই আয়োজনে বিশ্বের ১৫৮টি দেশ ও ভূখণ্ড অংশ নিয়েছে। “আমাদের জীবনের জন্য ভবিষ্যৎ সমাজ গঠন (Designing Future Society for Our Lives)” শিরোনামে আয়োজিত এই এক্সপোতে প্রতিটি দেশ তুলে ধরছে নিজেদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ভবিষ্যতের ভাবনা।
বড় দেশগুলো যেখানে বিশাল প্যাভিলিয়ন সাজিয়েছে, বাংলাদেশের মতো অনেক দেশ অংশ নিয়েছে মাঝারি আকারের প্রদর্শনী নিয়ে। তবে ছোট দেশগুলোর জন্য ছিল “কমনস (Commons)” নামের একটি যৌথ স্থাপনা, যেখানে ভুটান, পাকিস্তান, মঙ্গোলিয়া, দক্ষিণ সুদান, বুরকিনা ফাসো, কিউবার মতো দেশের পাশাপাশি স্থান পেয়েছে ফিলিস্তিন।
এই ছোট্ট কক্ষটি যেন এক মুহূর্তে থামিয়ে দেয় দর্শকদের চলার পথ। সম্মুখে জ্বলজ্বল করছে একটি নাম—ফিলিস্তিন। ভেতরে সাজানো ঐতিহ্যবাহী পোশাক, হস্তশিল্প, মাটির তৈজসপত্র, হারানো ভূমি ও স্থাপত্যের ছবি। দর্শকদের পদচারণায় জমজমাট ছিল এই প্রদর্শনী, যা নিপীড়িত ফিলিস্তিনিদের প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও সংহতির বহিঃপ্রকাশ।
ওসাকা এক্সপোর সময়কালেই গাজায় চলছে যুদ্ধবিরতি। তবে এর আগেই ইসরায়েলি আগ্রাসনে প্রাণ হারিয়েছে ৬৫ হাজারেরও বেশি মানুষ। এমন সময়ে কৃত্রিম দ্বীপ ইয়েমোশিমা–তে ফিলিস্তিনের এই উপস্থিতি যেন এক প্রতীকী প্রতিবাদ—বিশ্বজুড়ে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের দাবির এক মূর্ত প্রতিচ্ছবি।
জাপানেও ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতির নানা আয়োজন দেখা গেছে। বিক্ষোভ, প্রতিবাদী চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, মানববন্ধন—সব মিলিয়ে জাপানি জনগণের একাত্মতা ছিল স্পষ্ট। এমনকি দেশটির সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবাও জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।
এক্সপোর জাতিসংঘ প্যাভিলিয়নে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ফিলিস্তিনি নাগরিক মাহের নাসের, জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব। তিনি এর আগে ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ (UNRWA)–র নিউইয়র্ক কার্যালয়ের প্রধান ছিলেন।
২০ সেপ্টেম্বর, ইয়েমোশিমায় জাতিসংঘ প্যাভিলিয়নে কথা বলার সময় মাহের নাসের বলেন,
“এক্সপোর মূল বার্তা হলো ভবিষ্যৎ সমাজ গঠন। জাতিসংঘের প্যাভিলিয়নের উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে জানানো—কীভাবে জাতিসংঘ বিশ্বে শান্তি, উন্নয়ন ও সহাবস্থানের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।”
ওসাকা এক্সপোর এই ছোট্ট প্রদর্শনী তাই কেবল একটি অংশগ্রহণ নয়—এ যেন বিশ্বের সামনে এক টুকরা ফিলিস্তিন, যেখানে নিপীড়নের মাঝেও জেগে আছে আশা, সংস্কৃতি ও স্বাধীনতার স্বপ্ন।












