বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন আগামী ১২ জানুয়ারি ঢাকায় পৌঁছাতে পারেন। প্রেসিডেন্টের কাছে পরিচয়পত্র পেশের পর দ্রুত সময়ের মধ্যেই তিনি ঢাকায় তার কূটনৈতিক মিশনের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব শুরু করবেন বলে জানিয়েছে দায়িত্বশীল কূটনৈতিক সূত্র। নতুন রাষ্ট্রদূতের যোগদানকে কেন্দ্র করে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের মধ্যে চিঠি চালাচালি চলছে। এ বিষয়ে আজ আনুষ্ঠানিক বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
এদিকে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশে নির্বাচনী প্রস্তুতি চলছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর ধারণা, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই নির্বাচন এবং নির্বাচন-পরবর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণই হবে নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূতের অন্যতম প্রধান কাজ।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয় এবং ডিসেম্বরে তাকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মার্কিন সিনেট। এর আগে তিনি ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ঢাকায় পিটার হাসের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। পিটার হাস ২০২২ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। তার অবসরের পর অন্তর্বর্তীকালীনভাবে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ট্রেসি অ্যান্ড জ্যাকবসন।
রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত হওয়ার আগে ক্রিস্টেনসেন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডে পররাষ্ট্রনীতি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ কূটনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি ওয়াশিংটনসহ বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন।
সিনেটের ফরেন রিলেশন্স কমিটির শুনানিতে দেওয়া বক্তব্যে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে এবং গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের পথে দেশটির পাশে থাকতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পেলে তিনি যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদার, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সমর্থন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করবেন বলে জানান।