নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলামের বদলি হওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্কিত এক ঘটনা আলোচনায় এসেছে। ভিসা প্রতারণা মামলার এজাহারভুক্ত কয়েকজন আসামি ও এক মাদক কারবারির কাছ থেকে বিদায়ী সংবর্ধনা হিসেবে ‘ক্রেস্ট’ গ্রহণ করেন তিনি। শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকালে এ ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা।
ফেসবুকে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায় থানার একটি কক্ষে সিভিল পোশাকে থাকা ওসি আশরাফুল ইসলামের হাতে ক্রেস্ট তুলে দিচ্ছেন ভিসা প্রতারণার তিন এজাহারনামীয় আসামি ও এক মাদক মামলার আসামি। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় প্রশ্ন উঠেছে বদলি হওয়া এক পুলিশ কর্মকর্তার বিদায়ী সংবর্ধনায় আসামিরা কীভাবে থানায় প্রবেশ করল এবং ক্রেস্ট প্রদান করল?
স্থানীয় সূত্র জানায়, দায়িত্বকালজুড়ে ওসি আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভিসা প্রতারকদের সঙ্গে ঘুষ-বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ ছিল। সম্প্রতি হিন্দু পল্লিতে হামলার তথ্য সংগ্রহে গেলে সাংবাদিকদের গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়ায় তিনি আরও বিতর্কিত হয়ে ওঠেন।
এ ছাড়া, গত ১১ নভেম্বর ফেসবুকে ভিসা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১৬ লাখ টাকা প্রতারণার মামলায় বেনজির ইসলাম নামে এক তরুণকে গ্রেপ্তার করে কিশোরগঞ্জ থানা-পুলিশ। জামিনে মুক্ত হওয়ার পর বেনজির ইসলামই থানায় এসে ওসির হাতে বিদায়ী ক্রেস্ট তুলে দেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আক্কাস আলী বলেন, “ওসি থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে ঘুষ-বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগ ছিল। এখন সেই প্রতারকরাই তাকে ক্রেস্ট দিচ্ছ এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
আরেক বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন বলেন, “ভিসা প্রতারকদের সঙ্গে ওসির বেশ ভালো সম্পর্ক ছিল। যে ছেলেকে প্রতারণার মামলায় ধরা হলো, সেই ছেলেই আবার ক্রেস্ট দিল এটা দেখে আমরা হতবাক।”
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “তারা থানায় এসেছিল এবং এসে ওসি সাহেবকে একটি ক্রেস্ট দিয়েছে।”
ঘটনা ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের বড় একটি অংশ পুলিশের স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার প্রশ্ন তুলেছেন। পুরো বিষয়টি নিয়ে এখন প্রশাসনিক তদন্তের দাবি উঠছে।