ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির ইশতেহার চূড়ান্তের কাজ শুরু করেছে দলটি। সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর এখন নীতিগত অঙ্গীকার, জুলাই জাতীয় সনদ এবং রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফার ভিত্তিতে ইশতেহার তৈরি করা হচ্ছে। সোমবার রাতে গুলশানে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
দলীয় সূত্র জানায়, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, শাসনব্যবস্থার সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ, মানবাধিকার সুরক্ষা ও দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থা শক্তিশালী করাকেই ইশতেহারের কেন্দ্রীয় অঙ্গীকার হিসেবে রাখা হচ্ছে। জনগণের মালিকানা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দলীয় প্রভাবমুক্ত প্রশাসন গঠনের প্রতিশ্রুতি এতে গুরুত্ব পাবে।
ইশতেহারে অবাধ নির্বাচন, নির্দলীয় সরকারের অধীনে ভোট, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের বিষয়গুলো বিস্তৃতভাবে তুলে ধরা হবে। জুলাই সনদের আলোকে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও সংযোজন করা হচ্ছে।
প্রচারণায় শ্রেণিভিত্তিক প্রতিশ্রুতি যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে। আলেম-ওলামা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, যুব সমাজ, কৃষক, নারী ও সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য আলাদা অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত থাকবে ইশতেহারে। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, নিরাপত্তা সেল এবং ধর্মীয় উৎসবে রাষ্ট্রীয় সহায়তার বিষয়গুলোও যুক্ত হচ্ছে।
যুবকদের জন্য ১ কোটি চাকরি, স্টার্টআপ ফান্ড, আইটি প্রশিক্ষণ ও বিদেশে নতুন শ্রমবাজার—এ ধরনের প্রতিশ্রুতি থাকবে ইশতেহারে। কৃষকদের জন্য কৃষি উপকরণের দাম কমানো, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত ও কৃষিঋণ সহজ করার অঙ্গীকার যুক্ত হবে। নারীর নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা তহবিল ও সহিংসতা প্রতিরোধে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালও ইশতেহারের অংশ করা হচ্ছে।
দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পর বড় পরিসরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ইশতেহার প্রকাশ করা হবে।