রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে করা তিনটি পৃথক দুর্নীতি মামলার রায় পড়া শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ২৩ মিনিটে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন রায় পাঠ করতে শুরু করেন। রায়কে কেন্দ্র করে আদালতপাড়ায় নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে বিজিবি।
গত রোববার কারাগারে থাকা একমাত্র আসামি রাজউকের সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের পক্ষে যুক্তিতর্ক শেষ হয় এবং আজকের দিন রায়ের জন্য নির্ধারণ করা হয়। বাকি আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের পক্ষে কোনো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন হয়নি। আত্মপক্ষ সমর্থন করতেও পারেননি তারা। দুদক প্রসিকিউটর খান মো. মাইনুল হাসান লিপন জানিয়েছেন, মামলার সব আসামির বিরুদ্ধেই সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড—প্রত্যাশা করছেন তারা। অন্যদিকে আসামি খুরশীদ আলমের আইনজীবী শাহীনুর রহমান দাবি করেছেন, দুদক তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি, ফলে তিনি খালাস পাবেন বলে আশা করছেন।
গত জানুয়ারিতে পূর্বাচল প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে পৃথক ৬টি মামলা করে দুদক। এসব মামলায় শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা, রেহানার মেয়ে ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকসহ মেয়ের সন্তান রাদওয়ান মুজিব, আজমিনা সিদ্দিকসহ আরও অনেকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান, একাধিক সাবেক সদস্য, পরিচালক ও উপপরিচালকসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও অভিযুক্ত তালিকায় আছেন।
গত ৩১ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ তিনটি মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। অন্য তিন মামলায় অভিযোগ গঠন করেন বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক মো. রবিউল আলম। মামলাগুলোর অভিযোগ থেকে জানা যায়—১৪ জানুয়ারি শেখ হাসিনাসহ আটজনের বিরুদ্ধে প্রথম মামলাটি করেন দুদকের উপপরিচালক সালাহউদ্দিন। তদন্ত শেষে আরও চারজনকে অন্তর্ভুক্ত করে ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। একইভাবে ১২ জানুয়ারি সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ও শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করে আরেকটি মামলা করে দুদক, তদন্ত শেষে যার সংখ্যা দাঁড়ায় ১৮ জনে। তৃতীয় মামলায় সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্লট বরাদ্দের অনিয়মের অভিযোগে ১৪ জানুয়ারি মামলা করা হয় শেখ হাসিনা ও জয়সহ ১৫ জনকে আসামি করে; তদন্ত শেষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ জনে।
অভিযোগে বলা হয়েছে—সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকাকালে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচল নতুন শহর আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরে ১০ কাঠা করে প্লট বরাদ্দ নেন। যাদের অনেকে বিধিসম্মত যোগ্যতার শর্ত পূরণ করেননি। তদন্ত সংস্থার দাবি—এ ধরনের পদোন্নতিহীন ও নিয়মবহির্ভূত বরাদ্দ প্রক্রিয়া রাষ্ট্রের ক্ষতির কারণ হয়েছে এবং এটি দুর্নীতি দমন আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।