নিবন্ধন পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে প্রথম সংলাপে অংশ নিয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি প্রয়োগের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আজ বুধবার সকালে আগারগাঁওয়ে নিবন্ধিত সাতটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপে অংশ নেয় দলটি।
সংলাপে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব জহিরুল ইসলাম বলেন, আচরণবিধির ৭ ধারার চ উপধারা পরীক্ষার মুখে ফেলবে নির্বাচন কমিশনকে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিএনপির প্রার্থীরা যদি বেগম খালেদা জিয়ার জায়গায় তারেক রহমানের ছবি ব্যবহার করেন, ইসি কি তা ঠেকাতে পারবে?
জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের গড়া এনসিপি আরও বলে, আচরণবিধির বেশ কিছু বিধান বাংলাদেশের নির্বাচনী সংস্কৃতি ও প্রচারণার বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। জহিরুল ইসলাম বলেন, চটের ওপর ব্যানার প্রিন্ট করার সুবিধা দেশে খুব সীমিত, ফলে এটি বাস্তবায়ন কঠিন। সাউন্ডবক্সের শব্দমাত্রা ৬০ ডেসিবেল নির্ধারণের ক্ষেত্রেও পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি বা পর্যবেক্ষণব্যবস্থা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আচরণবিধিতে লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত কমিটির কাছে জানাতে বলা হলেও ওই কমিটির সংজ্ঞা বা কার্যপ্রণালি স্পষ্ট নয়—এ অভিযোগও তোলে এনসিপি। তাদের দাবি, কাঠামোগতভাবে কিছু প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি ও দলকে সুবিধা দিতে আচরণবিধি সাজানো হয়েছে।
তবে আচরণবিধির ২৪ ও ২৫ ধারায় প্রার্থীদের যৌথভাবে ইশতেহার পাঠ ও টেলিভিশন সংলাপে অংশগ্রহণ এসবকে স্বাগত জানায় দলটি এবং এগুলো বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রাখে। একই সঙ্গে কোনো দলের অভ্যন্তরীণ সহিংসতায় কেউ আহত বা নিহত হলে সেই প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের বিধান যোগ করার দাবি জানায়।
গণভোটের নীতিমালা কবে পাওয়া যাবে এ প্রশ্নও তুলে এনসিপি। দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ থেকে সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এবং বলেন, ইসির স্বতন্ত্রতা নিশ্চিত হলে এনসিপি পুরোপুরি সহযোগিতা করবে।