ঢালিউডের অমর নায়ক সালমান শাহর মৃত্যু রহস্য নিয়ে ফের চলছে আলোচনার ঝড়। অপমৃত্যুর মামলা রূপ নিয়েছে হত্যা মামলায়, আর সেই সূত্রে উঠে আসছে একের পর এক অজানা তথ্য। এবার আলোচনায় এসেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তৎকালীন মর্গকর্মী রমেশ, যিনি সালমান শাহর মরদেহে ময়নাতদন্তের সময় ছুরি চালিয়েছিলেন।
ধর্মান্তরিত হয়ে বর্তমানে সেকান্দার নাম ধারণ করা এই মর্গকর্মী সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমার প্রিয় নায়কের বুকে আমি নিজেই ছুরি চালাই। ফরেনসিক চিকিৎসকের নির্দেশে করতে হয়েছিল সবকিছু, কিন্তু বিশ্বাস হচ্ছিল না—সালমান মারা গেছেন।”
তিনি স্মৃতিচারণ করে আরও বলেন, “সেদিন ছিল শুক্রবার, হয়তো সরকারি ছুটি। মর্গের সামনে হাজারো মানুষের ভিড়—সবাই কাঁদছে, শেষবারের মতো সালমান শাহকে দেখতে চায়। লাশ কাটার সময় মনে হচ্ছিল, যেন নিজের প্রিয় মানুষকে আঘাত করছি।”
৩৫ বছরের চাকরি শেষে অবসরে থাকা সেকান্দার জানান, “হাজার হাজার লাশ কাটার অভিজ্ঞতা আছে, কিন্তু সালমানের লাশে হাত দেওয়ার স্মৃতি আজও ভুলতে পারিনি।”
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন সালমান শাহ। তখন তার মৃত্যু ‘আত্মহত্যা’ বলে ঘোষণা করা হয়। তবে সালমানের পরিবার শুরু থেকেই দাবি করে আসছিল—এটি পরিকল্পিত হত্যা। দীর্ঘ ২৮ বছর পর, চলতি বছরের ২০ অক্টোবর আদালত সালমান শাহর মৃত্যুকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সালমান শাহর মৃত্যু আজও এক অমোঘ রহস্য—যার উত্তর খুঁজে ফিরছেন কোটি ভক্ত।