শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহের তাণ্ডবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৩ জনে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ১৩০ জন। প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রায় ১৫ হাজার বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে ৪৪ হাজারেরও বেশি মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন।
শনিবার দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগকে (ডিএমসি) উদ্ধৃত করে এ খবর জানিয়েছে আল জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এক সপ্তাহ ধরে ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহর প্রভাবে শ্রীলঙ্কায় ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে ব্যাপক ভূমিধস ও হড়কা বন্যা দেখা দেয়। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ছিল ৪০–এর বেশি; তবে শুক্রবার সকালের পর ঝড়টি আঘাত হানায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শনিবার ঘূর্ণিঝড়টি শ্রীলঙ্কা ছেড়ে ভারতের দিকে অগ্রসর হলেও এর আগে দেশটিতে প্রবল ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। কোনো কোনো এলাকায় ৩০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে—যার ফলে আবারও ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়।
ডিএমসির মহাপরিচালক সম্পথ কোতুওয়েগোদা জানান, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর কয়েক হাজার সদস্য ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে নিয়োজিত রয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশটির পূর্ব ও মধ্যাঞ্চল। বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়। স্থগিত করা হয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, স্রোতের তোড়ে ঘরবাড়ি ও স্থাপনা ভেসে যাচ্ছে। অনেক মানুষ এখনো বিভিন্ন এলাকায় আটকে আছেন; প্রত্যন্ত স্থানে উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে।
ডিটওয়াহ প্রথমে গভীর নিম্নচাপ হিসেবে সৃষ্টি হলেও দ্রুত তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়। ঝড়ের পরও নদ-নদীর পানি অব্যাহতভাবে বাড়ছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার জন্য কেলানি নদী উপত্যকার নিম্নাঞ্চলে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে রাজধানী কলম্বোও।