১৯৭৯ সালে সোভিয়েত আগ্রাসনের পর নিজেদের দেশ ছেড়ে পাকিস্তানে আশ্রয় নিয়েছিলেন লাখ লাখ আফগান নাগরিক। তাদেরই একজন আল্লাহ মীরের পরিবার। পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কোহাটের এক শরণার্থী গ্রামে জন্ম ও বেড়ে ওঠা মীর এখন ৪৫ বছরের এক মানুষ—যার শিকড়, স্মৃতি আর জীবন সবই পাকিস্তানে।
তবে এখন সেই আশ্রয়ের জমিই হয়ে উঠছে অনিশ্চিত। গত সপ্তাহে পাকিস্তান সরকার ঘোষণা দিয়েছে, দেশজুড়ে থাকা ৫৪টি আফগান শরণার্থী গ্রাম বন্ধ করে দেওয়া হবে। ‘অবৈধ বিদেশি’ বিতাড়নের এই অভিযানের আওতায় পড়েছে কোহাটের সেই গ্রামও, যেখানে মীর ও তাঁর পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাস করছে।
আল–জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মীর বলেন,
“আমার জীবনে আমি মাত্র একবার আফগানিস্তানে গিয়েছি, সেটাও মাত্র দুই সপ্তাহের জন্য। আমরা এখানেই জন্মেছি, এখানেই বিয়ে করেছি, প্রিয়জনদের এখানেই দাফন করেছি—এখন কীভাবে সব ছেড়ে চলে যাব?”
২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর নতুন করে পাকিস্তানে আশ্রয় নেয় প্রায় ৬–৮ লাখ আফগান। বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ১২ লাখ Proof of Registration (PoR) কার্ডধারী, ৭ লাখ ৩৭ হাজার সিটিজেনশিপ কার্ডধারী এবং ১ লাখ ১৫ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী আফগান নাগরিক বসবাস করছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)।
ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র কায়সার খান আফ্রিদি বলেন, পাকিস্তান ৪৫ বছরের বেশি সময় ধরে আফগান শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে উদারতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তবে সাম্প্রতিক সরকারি সিদ্ধান্তে তাঁদের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, “যদি শরণার্থীদের ফেরত পাঠানো হয়, সেটি অবশ্যই স্বেচ্ছায়, ধাপে ধাপে এবং মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে হতে হবে।”
আফগানিস্তান–পাকিস্তান সীমান্তে বাড়তে থাকা উত্তেজনা, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং প্রশাসনিক কঠোরতার কারণে বর্তমানে লাখো আফগান শরণার্থীর জীবন এখন দোলাচলে—যেন নিজের ঘরেই তারা ‘অবৈধ’।