ভায়রার বিদেশ থেকে পাঠানো ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে নিজেই দুই ছিনতাইকারী ভাড়া করে ছিনতাইয়ের নাটক সাজান এক ব্যক্তি। পরে আবার নিজেই ভুক্তভোগীর বোনকে সঙ্গে নিয়ে থানায় গিয়ে মামলা করেন। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার আলদী বাজার এলাকায়।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায় মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মিনহাজুল আলম।
পুলিশ সুপার জানান, গত ২৮ ডিসেম্বর সদর উপজেলার দেওয়ানকান্দি গ্রামের প্রবাসী কাইয়ুম খান বিদেশ থেকে ১০ লাখ টাকা পাঠান। ওই টাকা রিকাবীবাজার সিটি ব্যাংক শাখা থেকে উত্তোলন করেন প্রবাসীর স্ত্রীর বোনের স্বামী শাহজালাল হালদার ওরফে সাহা। টাকা উত্তোলনের পর শাহজালাল, প্রবাসীর স্ত্রী ও প্রবাসীর বোন হালিমা বেগম ব্যাটারিচালিত মিশুকে করে টঙ্গীবাড়ী উপজেলার সেরাজাবাদ গ্রামে ফিরছিলেন।
পথে আলদী পাকা সড়কের ঋষিবাড়ি ব্রিজের উত্তর পাশে মুখ বাঁধা অবস্থায় নম্বরবিহীন একটি মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় প্রবাসীর বোন হালিমা বেগম টঙ্গীবাড়ী থানায় একটি মামলা করেন।
মামলার পর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— প্রবাসীর ভায়রা শাহজালাল হালদার ওরফে সাহা এবং তার ভাড়া করা সহযোগী খোকন হালদার ও ইকবাল হোসেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া টাকার মধ্যে এক লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে। বাকি টাকার অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে এবং দ্রুতই তা উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেছেন, ব্যাংক থেকে টাকা তুলে শাহজালাল নিজেই তা বহন করছিলেন। পরে দুই বন্ধুর সঙ্গে পরিকল্পনা করে তিনি ভায়রার টাকা আত্মসাতের জন্য ছিনতাইয়ের নাটক সাজান। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইজিবাইকে যাওয়ার সময় দুই সহযোগী টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয় এবং শাহজালাল কোনো ধরনের প্রতিরোধ না করে ব্যাগটি ছেড়ে দেন। পরে তিনজন মিলে টাকা ভাগ করে নেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা টঙ্গীবাড়ী থানার উপপরিদর্শক শাহ আলী জানান, ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।