চট্টগ্রামের পটিয়ায় চুরি, ছিনতাই ও মোটরসাইকেল চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। অপরাধীদের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে এবং দ্রুত শনাক্ত করতে পুরো পৌর এলাকাকে প্রযুক্তিগত নজরদারির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে পটিয়া পৌর সদরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও জনবহুল এলাকায় বসানো হচ্ছে ৩২টি হাই-পাওয়ার সিসি ক্যামেরা, যাকে স্থানীয় প্রশাসন ‘টেকনোলজি শিল্ড’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রথম ধাপে ১৬টি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে।
বাসস্টেশন, কলেজ গেট, থানার মোড়সহ ব্যস্ততম এলাকায় খুঁটিতে ক্যামেরা বসানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি পটিয়া পৌর সদরে ছিনতাই, চুরি ও মোটরসাইকেল চুরির একাধিক ঘটনায় সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় বাইপাস এলাকায় অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, পটিয়ার ভৌগোলিক অবস্থান, বাইপাস সংযোগ ও দ্রুত পালানোর সুযোগ অপরাধীদের জন্য সুবিধাজনক ছিল। তবে সিসি ক্যামেরা বসানো হলে পালানোর পথও আর নিরাপদ থাকবে না। ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে অপরাধের ধরন, সময় ও চলাচলের রুট শনাক্ত করা সহজ হবে।
পটিয়া পৌর সদরের বাসিন্দা আবছার উদ্দিন সোহেল বলেন, “চুরি-ছিনতাইয়ের কারণে রাতে চলাফেরা করতে ভয় লাগত। ক্যামেরা বসানোয় অপরাধীরা আর আগের মতো দৌরাত্ম্য দেখাতে পারবে না বলে আশা করছি।”
ব্যবসায়ীরাও জানান, রাতের বেলায় মোটরসাইকেল চুরি ও ছিনতাই বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে ক্যামেরা বসালেও তা যথেষ্ট ছিল না। পৌরসভার উদ্যোগে কেন্দ্রীয় নজরদারি ব্যবস্থা চালু হওয়ায় তারা স্বস্তি পাচ্ছেন।
পটিয়া পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, পুলিশ প্রশাসনের অনুরোধে পাঁচ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩২টি সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে ১৬টি ক্যামেরা বসানো শেষ হয়েছে এবং বাকি ১৬টি পর্যায়ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ও অপরাধপ্রবণ সড়কে স্থাপন করা হবে। ক্যামেরাগুলোর পর্যবেক্ষণ করবে পটিয়া থানা পুলিশ।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বলেন, “আগে ঘটনাস্থল ও পালানোর রুট শনাক্ত করা কঠিন ছিল। সিসি ক্যামেরা চালু হলে অপরাধীদের শনাক্ত করা সহজ হবে। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি প্রযুক্তির সহায়তায় অপরাধ দমনে কাজ করা হবে।”
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, পটিয়া পৌরসভায় ৩২টি হাই-পাওয়ার সিসি ক্যামেরা স্থাপন হলে রাতের অপরাধ ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমে আসতে পারে এবং অপরাধী শনাক্তের হার দ্বিগুণ হতে পারে। একই সঙ্গে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীদের রুটিন ভেঙে যাবে এবং জননিরাপত্তায় নতুন আস্থা তৈরি হবে।