জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ১ রানে বোল্ড হওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে ভালো শুরু পেয়েছিলেন লিটন দাস। প্রথম ৯ বলে ১৭ করার পর নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে ২৫ বলে আউট হন ২৩ রান করে। লুক জঙ্গুইর সেøা ডেলিভারিতে উঠিয়ে দেন লোপ্পা ক্যাচ। গতকালও চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শুরুটা ভালো পেয়েও ধরে রাখতে পারেননি ছন্দ। টেম্পার হারিয়ে বেøসিং মুজারবানির লেগ স্ট্যাম্পের বাইরের একটি হাফ-ভলি বলে স্কুপ করতে গিয়ে সেই একই কায়দায় বিলিয়ে আসেন উইকেট।
লেগ স্ট্যাম্প খুইয়ে এবার এই ওপেনারের ব্যাট থেকে আসে ১৫ বলে ১২ রান। টি-টোয়েন্টিতে যা মোটেই কাম্য নয়। একে তো ওপেনার, তার উপর শুরুতেই উইকেট হারিয়ে দলকে চাপে ফেলা- দুই অপরাধেই অপরাধী হয়ে মাঠ ছাড়লেন মাথা নীচু করে।
গত কয়েকদিন ধরেই লিটনকে দেখা যাচ্ছে না সেরা ছন্দে। কিছুটা জড়সড়ো হয়ে খেলছেন ডানহাতি ব্যাটার। বিশ্বকাপ সামনে থাকায় দলের সবচেয়ে সিনিয়র ওপেনারের ফর্ম নিশ্চিতভাবেই উদ্বেগের কারণ হওয়ার কথা টিম ম্যানেজমেন্টের। তবে ম্যাচের আগের দিন সাংবাদিকদের লিটনের ব্যাট হাতে সংগ্রাম করা নিয়ে প্রশ্নে ঠিকই এই কিপার ব্যাটারের হয়ে ব্যাট ধরেছিলেন সহকারী কোচ নিক পোথাস।
বলেছিলেন, ‘আমার মনে হয় এটা আপনাদের দৃষ্টিভঙ্গি। লিটন দাস আমাদেরকে অনেক কিছু দিচ্ছে। সে বিশ্বমানের ক্রিকেটার। অবিশ্বাস্য বিশ্বকাপ থেকে সে মাত্র এক ইনিংস দূরে আছে। কাজেই কোন সন্দেহ নেই লিটন দাস অনেক রান করবে, যেটা সে আগেও করেছে। সে আমাদের দলের জন্য অনেক কিছু। সে ফিল্ডিংয়ে যা দিচ্ছে, সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে সে যে ভ‚মিকা রাখছে। আপনারা যা দেখছেন তার থেকে অনেক বেশি সে দলে অবদান রাখছে।’ যদিও এই সিরিজে এখন পর্যন্ত তার কোনো সাক্ষর তিনি রাখতে পারেন নি।
এমনিতে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সফলতম ওপেনার লিটন। সর্বোচ্চ রান, সবচেয়ে বেশি স্ট্রাইকরেটও তার। তবে সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচে তাকে দেখা যাচ্ছে নিজের ছায়া হয়ে। ৫ ম্যাচে তার ব্যাট থেকে আসে ¯্রফে ৬৭ রান, গড় ১৩.৪০, স্ট্রাইকরেট ১০১.৫১। অথচ ১০ শেষ ১০ ম্যাচ ধরলে আবার সেটা ২৭.৬৬ গড় আর ১২৩.২৬ স্ট্রাইকরেটে ২৪৯ রান।
অর্থাৎ সাম্প্রতিক সময়ে অন্য সংস্করণে ব্যর্থতার চাপ তিনি নিয়ে এসেছেন টি-টোয়েন্টিতেও। এদিন আউটের মধ্য দিয়ে সম্ভবত বিশ্বকাপ স্কোয়াডেও জায়গা অনিশ্চিত করে (বোল্ড হয়ে) ফিরলেন মাথা নিচু করে।