আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন। তবে কোনো গণভোট পর্যবেক্ষণ করবে না ইইউ। রোববার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইয়ার ইয়াবস।
তিনি জানান, পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে প্রায় দুই মাস বাংলাদেশে কাজ করবে ইইউ মিশন। এই সময় তারা শুধু জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে।
অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ইয়ার ইয়াবস বলেন, সুষ্ঠু, অবাধ, গ্রহণযোগ্য এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে নির্বাচন প্রত্যাশা করে ইইউ। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলতে নারী-পুরুষ, সংখ্যালঘু, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ সামাজিক সব গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততাকে বোঝানো হয়। নির্বাচনে কত শতাংশ ভোটার অংশ নিলেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে তিনি বলেন, পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসই আসন্ন নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন। নির্বাচনের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা অপরিহার্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ইয়ার ইয়াবস জানান, ২০০৮ সালের পর এই প্রথম বাংলাদেশে একটি পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন পাঠিয়েছে ইইউ। এটি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও প্রক্রিয়ার প্রতি তাদের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন। ডিসেম্বরের শেষ দিকে ১০ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল দিয়ে মিশনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, আজ ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক ঢাকায় পৌঁছাবেন। ব্রিফিং শেষে আগামী শনিবার তারা দেশের সব বিভাগে মোতায়েন হবেন এবং ৬৪ জেলায় নির্বাচনী প্রস্তুতি ও প্রচার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন। নির্বাচনের আগে আরও ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক মিশনে যুক্ত হবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধি ও পর্যবেক্ষকরাও থাকবেন।
নির্বাচনের সময়ের কাছাকাছি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একটি প্রতিনিধিদল মিশনে যোগ দেবে জানিয়ে তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় ইইউর ২৭টি সদস্য রাষ্ট্র ও অংশীদার দেশ থেকে আসা প্রায় ২০০ পর্যবেক্ষক এই মিশনে কাজ করবেন।
মিশনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে ইয়ার ইয়াবস বলেন, নির্বাচন কতটা জাতীয় আইন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তা মূল্যায়নই মূল লক্ষ্য। আইনি কাঠামো, নির্বাচন পরিচালনা ব্যবস্থা, নির্বাচনী পরিবেশ, প্রার্থীদের আচরণ, ভোটার তালিকার প্রতি আস্থা, নির্বাচনী বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক ও নাগরিক অংশগ্রহণের পরিসর এবং পুরো প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র পর্যবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনসংক্রান্ত আলোচনা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।
তিনি জানান, ভোটের দিন ভোটকেন্দ্র খোলা থেকে শুরু করে ভোট গণনা ও ফল সংকলন শেষ হওয়া পর্যন্ত পুরো কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে ইইউ মিশন। নির্বাচনের দুই দিন পর ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। পরে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য সুপারিশ উপস্থাপন করা হবে।
ইয়ার ইয়াবস বলেন, ভোটের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার জন্য এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধার জরুরি।