গাজীপুরের টঙ্গীতে ট্রাভেল ব্যাগে অর্ধগলিত ও মাথাবিহীন যুবকের লাশের পেছনের ঘটনা শরীরে কাঁটা দেওয়ার মতো। এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। শনিবার (৯ আগস্ট) রাতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থেকে র্যাব-১ ও র্যাব-৭ এর যৌথ অভিযানে মূলহোতা আপেল মাহমুদ সাদেক (৪২), সহযোগী সাজ্জাদ হোসেন রনি (২৫) ও আপেলের স্ত্রী শাওন বেগম (৩২) গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানায়, নিহত অলি মিয়া (৩৫) নরসিংদী সদরের করিমপুরের মৃত সুরুজ মিয়ার ছেলে। ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে গত ৬ আগস্ট সকালে টঙ্গীর বাসায় ডেকে এনে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এরপর লাশ টুকরো করে পলিথিনে ভরে রাখা হয় এবং ৮ আগস্ট সকালে ব্যাগসহ রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়।
গত ৪ থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ না থাকায় স্ত্রী শাহানা আক্তার সন্দেহ করেন। পরে গত ৮ আগস্ট লাশ উদ্ধারের পর তিনি টঙ্গী পূর্ব থানায় হত্যা মামলা করেন।
র্যাবের ভাষ্য, ভিকটিমের সঙ্গে আসামিদের পূর্বশত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
হত্যার নেপথ্যের কারণ সম্পর্কে র্যাব-১ এর অধিনায়ক বলেন, ভুক্তভোগী অলি আসামি আপেল মাহমুদ সাদেকের স্ত্রীর চরিত্র সম্পর্কে খারাপ কথা বলায়, আসামি আপেল মাহমুদের ভাগ্নেকে খুন করার পরিকল্পনা জানতে পারায় ও আসামি সাজ্জাদ হোসেন রনিকে ভিকটিম অলি ২/৩ বছর আগে লোকজন দিয়ে মারধর করায় আপেল ও রনি পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী অলি মিয়াকে হত্যা করেন।
আসামি আপেল মাহমুদ ও রনি আগে একাধিকবার ভিকটিম অলিকে ট্রেনের নিচে চাপা দেওয়ার জন্য রেললাইনে নিয়ে যায়। এমনকি হত্যাকাণ্ডের দিন গত ৬ আগস্ট ভোরে অলিকে হত্যার জন্য আসামি আপেল মাহমুদ ও রনি রেললাইনের ওপর নিয়ে যান।
পরে ওই সময় ট্রেন না আসায় অলি, আপেল ও রনি আবার আপেলের বাসায় চলে যান। একই দিন আনুমানিক সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তারা একসঙ্গে সকালের নাস্তা করেন ও নাস্তার পর আসামি আপেলের স্ত্রী রান্না ঘরে থাকা অবস্থায় আসামি আপেল ও রনি পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তাদের রুমের দরজা বন্ধ করে ভিকটিম অলিকে বিছানায় ফেলে দড়ি ও বেল্ট দিয়ে পা বেঁধে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।
পরে তারা ভুক্তভোগীর লাশ টয়লেটের ভেতর রেখে দেন এবং সন্ধ্যার দিকে বাজার থেকে ছুরি, স্কচটেপ, কালো ব্যাগ ইত্যাদি নিয়ে আসেন। পরে রাত পৌনে ১২টার দিকে লাশটি টয়লেটের ভেতরে রেখে আসামি আপেল ও রনি বিভিন্ন অংশে টুকরো টুকরো করেন এবং কালো পলিথিনের ভেতরে প্যাকেট করে টয়লেটের সানসেটের উপরে ঢুকিয়ে রাখেন। এসময় আপেলের স্ত্রী শাওন বারান্দায় বসে পাহারা দেন।
আসামিরা গত ৭ আগস্ট লাশ বাইরে ফেলার সুযোগ পায়নি। পরে লাশ থেকে গন্ধ বের হলে গত ৮ আগস্ট সকাল ৬টার দিকে আসামি আপেল ও রনি পলিথিন ভর্তি লাশ ব্যাগে করে একটি অটোরিকশায় নিয়ে বাসা থেকে টঙ্গী স্টেশন রোডের হাজী বিরিয়ানি হাউজ ও নান্না বিরিয়ানি হাউজের সামনে ফেলে চলে যান।