চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ৫৬৫তম সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলিয়ে মোট ১৫৩ জনের নিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব নিয়োগের মধ্যে উপ-উপাচার্যদের স্বজনদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে নতুন করে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিন্ডিকেট সূত্রে জানা গেছে, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইইই, প্রাণিবিদ্যা, এইচআরএমসহ মোট ৯টি বিভাগে ৪৪ জন শিক্ষক নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ১০০ জন কর্মচারী এবং ৯ জন কর্মকর্তার নিয়োগ সুপারিশ অনুমোদন পায়। নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে নেটওয়ার্ক টেকনিশিয়ান, কম্পিউটার অপারেটর ও অফিস সহকারীসহ বিভিন্ন পদ রয়েছে।
এ ছাড়া উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. শামিম উদ্দিন খানের মেয়ে মাহিরা শামিম ফিন্যান্স বিভাগে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। একইভাবে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন খানের ভাগনে সাঈদুল রহমান নিয়োগ পেয়েছেন ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগে। প্রাথমিকভাবে স্বজনপ্রীতির অভিযোগে যেসব নিয়োগ প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত ছিল, সেগুলোর মধ্যেও ল্যাবরেটরি স্কুলের নিয়োগ বোর্ডের এক বিশেষজ্ঞ সদস্যের স্ত্রী জান্নাতুন নাঈম ও শ্যালিকা জান্নাতুন আফরোজের নিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে আগে বহিষ্কৃত জামায়াতে ইসলামীর হাটহাজারী উপজেলা আমির সিরাজুল ইসলামকে সেকশন অফিসার থেকে সহকারী রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে একই সিন্ডিকেট সভায় নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনায় শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওশানোগ্রাফি বিভাগের সেকশন অফিসার পদে নিয়োগ পরীক্ষার সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করে উত্তর লেখার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এক প্রার্থীকে আগামী তিন বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের নিয়োগ ও পদোন্নতি পরীক্ষায় অংশগ্রহণে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক শামিম উদ্দিন খান বলেন, নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি বা অনিয়মের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই এই শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।