ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর হামলার ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বরের সূত্র ধরে এর মালিক আবদুল হান্নানকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
শনিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। রোববার (১৪ ডিসেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার তালেবুর রহমান সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, হত্যাচেষ্টার ঘটনায় আবদুল হান্নানের কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ওসমান হাদিকে গুলি করা অপরাধীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। এরই মধ্যে হামলায় জড়িত শুটারকে শনাক্ত করা হয়েছে।
তালেবুর রহমান বলেন, হামলাকারীরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে—এমন কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। হামলার উদ্দেশ্য কী ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে। ভোটের মাঠে থাকা প্রার্থীদের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে নগরজুড়ে চেকপোস্ট ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। পরিস্থিতির উন্নতি হলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। তিনি বর্তমানে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওসমান হাদির পাশে রয়েছেন।
পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার হারুন অর রশীদ জানান, র্যাব-২ আবদুল হান্নানকে আটক করে পরে পল্টন থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। পুলিশ সূত্র জানায়, হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি শনাক্ত করে সেটির মালিক হিসেবে আবদুল হান্নানকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে এবং আটক আবদুল হান্নানকে পল্টন থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। গুলি করা ব্যক্তি হিসেবে সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দুপুর ২টা ২৪ মিনিটে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশায় থাকা অবস্থায় শরিফ ওসমান বিন হাদিকে পেছন থেকে অনুসরণ করে আসা একটি মোটরসাইকেল থেকে গুলি করা হয়। এ ঘটনায় পল্টন থানার পাশাপাশি র্যাব, ডিবিসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট তদন্ত ও অভিযান পরিচালনা করছে।