আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতিকে ক্রিকেটের জন্য দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের সংগঠন বিশ্ব ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউসিএ)।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি ক্রিকেটকে বিভক্ত না করে ঐক্যবদ্ধ করার আহ্বান জানায়।
রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা জানিয়ে বাংলাদেশ ভারত সফরে যেতে অস্বীকৃতি জানালে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) আইসিসি ২০ দলের আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বাংলাদেশের ম্যাচগুলো সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের অনুরোধ জানালেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) জানায়, ৭ ফেব্রুয়ারি টুর্নামেন্ট শুরুর এত কাছাকাছি সময়ে সূচিতে পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।
ডব্লিউসিএর প্রধান নির্বাহী টম মফাট বিবৃতিতে বলেন,
“টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে প্রত্যাহার এবং এর ফলে শীর্ষ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি আসর থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটিং দেশের অনুপস্থিতি আমাদের খেলাটির জন্য, বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের জন্য এবং সমর্থকদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক।”
তিনি আরও বলেন,
“বিভাজন কিংবা বর্জনের পথে না গিয়ে আমরা ক্রিকেটের নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানাই—সংস্থা, বিভিন্ন লিগ ও খেলোয়াড়সহ সব অংশীজনের সঙ্গে একযোগে কাজ করে ক্রিকেটকে ঐক্যবদ্ধ করতে, বিভক্ত নয়।”
ডব্লিউসিএ মনে করছে, এই ঘটনা দক্ষিণ এশীয় ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান রাজনৈতিক টানাপোড়েনের চিত্রও স্পষ্টভাবে সামনে এনেছে।
ভারতের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্কের জটিলতার কারণে পাকিস্তান বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের আয়োজক হলে ভারতকে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলানোর ব্যবস্থা করতে আগেও আইসিসিকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি শনিবার জানিয়েছেন, পাকিস্তানের অংশগ্রহণ এখনো চূড়ান্ত নয়।
তিনি বলেন,
“প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে পাকিস্তানে নেই। তিনি দেশে ফিরলে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।”
মহসিন নাকভি বর্তমানে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বেও রয়েছেন।
বিবৃতিতে টম মফাট আরও বলেন, ক্রিকেটে চুক্তি মানা না হওয়া এবং খেলোয়াড় ও তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অর্থবহ পরামর্শের অভাব নিয়ে ডব্লিউসিএ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
তার ভাষায়,
“এই ঘটনা বৈশ্বিক পর্যায়ে ক্রিকেটের বর্তমান পরিচালন কাঠামোর গুরুতর দুর্বলতাগুলোকে সামনে আনছে।”
তিনি সতর্ক করে বলেন,
“এই সমস্যাগুলো যদি সমাধান না হয়, তবে তা বিশ্বাস, ঐক্য এবং শেষ পর্যন্ত আমাদের প্রিয় খেলাটির ভবিষ্যৎকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করে দিতে পারে।”