রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার যুগিশো গ্রামে অবস্থিত এসএস মৎস্য ফার্মে চলছে ভিন্ন এক নিয়ম। এখানে মাছ ধরতে জেলেদের মাথায় পরতে হয় হেলমেট। কারণ, জালে ধরা পড়া মাছ লাফিয়ে উঠে আঘাত করে বসে। এর ফলে চোখ-মুখ ফেটে যাওয়া কিংবা দাঁত ভেঙে যাওয়ার মতো দুর্ঘটনা ঘটেছে বহুবার।
৫ হাজার বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা এই খামারে রয়েছে ১৮০টি পুকুর। প্রতিদিন এখান থেকে প্রায় ৫ হাজার কেজি রুই, কাতলা, মৃগেলসহ বিভিন্ন জাতের মাছ বাজারজাত হয়। স্থানীয় বাজার ছাড়াও ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে যায় এসব মাছ। দৈনিক বিক্রির পরিমাণ প্রায় ১৬ লাখ টাকা।
খামারের ম্যানেজার আফজাল হোসেন জানান, তিন বছর ধরে বড় মাছ চাষ শুরু করেছেন তারা। মাছ ধরতে গিয়ে বহু শ্রমিক আহত হওয়ায় সবার জন্য হেলমেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
জেলে রহিদুল ইসলাম বলেন, মাছের আঘাতে তার দাঁত ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই হেলমেট ব্যবহার শুরু হয়। অন্য জেলেরা জানান, বড় মাছ এত শক্তিশালী যে জালে ওঠার সময় লাফিয়ে তীব্র আঘাত করে বসে।
খামারের মালিক গোলাম সাকলায়েনও একসময় রুই মাছের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই কর্মচারীদের নিরাপত্তার জন্য হেলমেট ব্যবহারের নিয়ম চালু করেছেন তিনি।
তিনি আরও জানান, খামারে প্রতিদিন প্রায় ১২০ জন মানুষ কাজ করেন। বড় মাছ ধরার ঝুঁকি থাকলেও এখন হেলমেট ব্যবহারের কারণে দুর্ঘটনা অনেকটাই কমে এসেছে।