রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা কখনোই কার্যকর সমাধান নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সহ–আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানা। সম্প্রতি এক বেসরকারি টেলিভিশনের টক শোতে তিনি বলেন, কাগজে–কলমে নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও বাস্তবে কোনো দলকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়া যায় না।
রুমিন ফারহানা বলেন, জামায়াতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও নিবন্ধন বাতিল করেও দলটিকে রাজনীতি থেকে সরানো যায়নি। তিনি মন্তব্য করেন, “নিষিদ্ধ করে আসলে কোনো সমাধান হয় না। মানুষের মন থেকে কোনো দলকে সরাতে না পারলে কাগজে নিষিদ্ধ করে লাভ নেই।”
উদাহরণ হিসেবে তিনি বাংলাদেশের মুসলিম লীগের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য, দলটির শক্ত উপস্থিতি না থাকলেও তারা এখনো রাজনীতিতে টিকে আছে। তিনি আরও বলেন, গত বছর নিষিদ্ধ হওয়া একটি দলও মাঠে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, যা প্রমাণ করে যে নিষেধাজ্ঞা রাজনৈতিক বাস্তবতায় খুব কমই কার্যকর হয়।
আওয়ামী লীগের বাইরে থাকা এবং দীর্ঘদিন বড় পদে না থাকা নেতাদের নিয়ে নতুন একটি জোট গঠনের আলোচনার বিষয়েও মন্তব্য করেন রুমিন ফারহানা। তাঁর ধারণা, ১৬টি রাজনৈতিক দল যুক্ত এই সম্ভাব্য জোটে আওয়ামী লীগের প্রতি ‘সফট কর্নার’ থাকা ব্যক্তিরা যুক্ত হতে পারেন।
নির্বাচন প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন বানচাল করার বিষয়ে আওয়ামী লীগের পরিকল্পনার কথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেই উঠে এসেছে।
তরুণ ভোটারদের নিয়ে ডেভিড বার্গম্যান প্রকাশিত এক জরিপের প্রসঙ্গ টেনে রুমিন ফারহানা বলেন, জরিপে দেখা গেছে তরুণদের একটি বড় অংশ বিএনপি ও জামায়াতকে ভোট দিতে আগ্রহী, আর আওয়ামী লীগের সমর্থন তুলনামূলক কম। তাঁর বক্তব্য, জনগণের সমর্থন থাকলে কোনো নিষেধাজ্ঞা দিয়েই রাজনৈতিক দলকে আটকানো সম্ভব নয়।