রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। তাঁর সাম্প্রতিক বিভিন্ন পরীক্ষার রিপোর্ট ভালো আসায় মেডিক্যাল বোর্ড আপাতত তাঁকে বিদেশে না নিয়ে দেশেই চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ভাবছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
মেডিক্যাল বোর্ডের একজন চিকিৎসক জানান, আগের তুলনায় খালেদা জিয়া এখন বেশ সুস্থ আছেন এবং দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখছেন। তিনি বলেন, “আগেও তাঁর অবস্থা বেশি ক্রিটিক্যাল ছিল, তখনও সেরে উঠেছিলেন। আশা করছি, এবারও বিদেশে নেওয়ার প্রয়োজন নাও হতে পারে।”
খালেদা জিয়াকে সিসিইউতে কতদিন থাকতে হবে এ বিষয়ে চিকিৎসক জানান, তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতির ওপরই এটি নির্ভর করছে। দেশি-বিদেশি চিকিৎসকরা তাঁর চিকিৎসায় একযোগে কাজ করছেন। পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান শয্যাপাশে থেকে চিকিৎসার সব বিষয় সমন্বয় করছেন।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. এনামুল হক চৌধুরী জানান, মেডিক্যাল বোর্ড সিদ্ধান্ত দিলেই তাঁকে লন্ডনে নেওয়া হবে। কাতার সরকারের সহযোগিতায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রয়েছে।
৭৯ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, লিভার, ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের জটিলতাসহ নানা রোগে ভুগছেন। ২৩ নভেম্বর হাসপাতালে নেওয়ার পর ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়লে তাঁকে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে সিসিইউতে নেয়া হয়। তাঁকে ইতিমধ্যে ভিভিআইপি ঘোষণা করে নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছে এসএসএফ।
এদিকে আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টায় ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের। প্রাথমিক শিডিউল অনুযায়ী রাত ৯টার দিকে এটি ঢাকা ছাড়তে পারে। তবে শেষ সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে মেডিক্যাল বোর্ডের মূল্যায়ন ও তাঁর শারীরিক অবস্থার ওপর।
দেশে চিকিৎসায় উন্নতি হওয়ায় বিদেশ যাত্রা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে সব নজর এখন মেডিক্যাল বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে।