চট্টগ্রামের চন্দনাইশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও গেজেটপ্রাপ্ত বীর হাসনাত আব্দুল্লাহর ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার বদুরপাড়া এলাকায় এ হামলা হয়। একই ঘটনায় মাঈনউদ্দীন নামে আরও এক যুবক আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল লাঠি ও চাকু নিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ ও তাঁর সঙ্গীর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। বদুরপাড়া পাক্কাদোকান এলাকা থেকে পেট্রোল পাম্পের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের ঘনিষ্ঠদের দাবি, হামলার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জুলাইযোদ্ধা জানান, সম্প্রতি চট্টগ্রাম–১৪ আসনের বিতর্কিত প্রার্থী জসিম উদ্দিনের মনোনয়ন বাতিল ও গ্রেপ্তারের দাবিতে নির্বাচন কমিশনে জুলাইযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়। ওই কর্মসূচির জের ধরেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁদের ধারণা।
চট্টগ্রাম–১৪ আসনের এলডিপি প্রার্থী অধ্যাপক ওমর ফারুক বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া যোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। যারা গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, তাদের ওপর হামলা হলে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ ও নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকতে পারে না।
এ ঘটনায় দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ ও মাঈনউদ্দীনের ঘনিষ্ঠরা।
হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এনসিপি নেতা হাসান আলী। নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, জুলাইয়ের আহত গেজেটপ্রাপ্ত বীর হাসনাত আব্দুল্লাহর ওপর চন্দনাইশ বদুরপাড়ায় হামলার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
উল্লেখ্য, হাসান আলী আগে এনসিপির প্রার্থী ছিলেন। পরে ১১ দলীয় জোট গঠনের পর তিনি চট্টগ্রাম–১৪ আসনে এলডিপি প্রার্থী অধ্যাপক ওমর ফারুকের প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন ঘোষণা করেন।