ম্যানচেস্টার সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা এক ম্যাচে ১০টি পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্তের জন্য দায় স্বীকার করেছেন। শনিবার নিউক্যাসলের বিপক্ষে হারের পর গতকাল চ্যাম্পিয়নস লিগে লেভারকুসেনের মুখোমুখি হয় সিটি। সেই ম্যাচেই নিজের সাধারণ কৌশল থেকে সরে এসে দলে বড় পরিবর্তন আনেন গার্দিওলা। তবে ফলটা এসেছে উল্টো। ঘরের মাঠ ইতিহাদে ২–০ গোলে হারতে হয়েছে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নদের।
ম্যাচের দুই অর্ধেই গোলের সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি নাথান একে ও বদলি হয়ে নামা আর্লিং হলান্ড। ছন্দহীন ফুটবলেই ভুগেছে পুরো দল। বিপরীতে লেভারকুসেন সুযোগ পানেই গোল করে নেয়। ২৩ মিনিটে ক্রিস্টিয়ান কোফানের পাস থেকে প্রথম গোল করেন দলের অধিনায়ক আলেহান্দ্রো গ্রিমালদো। ৫৪ মিনিটে ইব্রাহিম মাজার ক্রস থেকে হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন প্যাট্রিক শিক।
সিটির কোচ হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি ছিল গার্দিওলার ১০০তম ম্যাচ। স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন ও আর্সেন ওয়েঙ্গারের পর কোনো ইংলিশ ক্লাবের হয়ে এ মাইলফলক স্পর্শ করা তৃতীয় কোচ তিনি। তবে মাইলফলকের ম্যাচেই হারের দায় নিজের কাঁধেই নিয়েছেন গার্দিওলা। নিউক্যাসল ম্যাচের একাদশ থেকে শুধুই নিকো গঞ্জালেসকে রেখে বাকি ১০ জনকে বদলে দেন তিনি।
ম্যাচ শেষে টিএনটি স্পোর্টকে গার্দিওলা বলেন, “সব দায় আমার। যারা খেলেছে তারা অসাধারণ, কিন্তু শীর্ষ পর্যায়ে যেটা প্রয়োজন—সেটা আমাদের ছিল না।” এতগুলো পরিবর্তনের সমালোচনা মেনে নেবেন কি না—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “জিতলে সমস্যা হতো না। তাই মেনে নিতে হবে যে কারণ বোধ হয় অনেকগুলো পরিবর্তন। দু–তিন দিন পরপর খেলতে হলে পরিবর্তন করতেই হয়। কিন্তু এবার হয়তো বেশি হয়ে গেছে।”
নিজের কোচিং ক্যারিয়ারে এই প্রথম কোনো ম্যাচে দলে ১০টি পরিবর্তন এনেছেন বলেও জানান তিনি।
এই হার দিয়ে ঘরের মাঠে সব ধরনের প্রতিযোগিতায় সিটির টানা ২৩ ম্যাচের অপরাজিত থাকার রেকর্ডও ভেঙে যায়। পাঁচ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার ছয়ে নেমে গেছে দলটি। সমান ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে ১৩তম লেভারকুসেন।
জয়ের পর লেভারকুসেন কোচ ক্যাসপার হিউলমান্দ বলেন, “তারা যাকেই খেলাক, দলটা মানসম্মত। আমরা ভালো খেলেছি।”
চ্যাম্পিয়নস লিগে পরবর্তী ম্যাচে ১০ ডিসেম্বর রিয়াল মাদ্রিদের মাঠে খেলতে নামবে সিটি। গার্দিওলা জানান, প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট সময় হাতে আছে তাদের।