খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপির চেয়ারম্যান পদ শূন্য হয়ে পড়ায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানই দলের নতুন চেয়ারম্যান হচ্ছেন। তবে কবে, কখন এবং কী প্রক্রিয়ায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত করা হবে সে বিষয়ে এখনো দলীয়ভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে থাকায় এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে নির্বাচনী প্রচারের ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড, লিফলেট ও ডিজিটাল পোস্টারে কার ছবি ব্যবহার করা হবে—এ প্রশ্নটি এখন দলটির জন্য সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। তফসিল ঘোষণার আগেই বিএনপির অনেক প্রার্থী নির্বাচনী ব্যানার, ফেস্টুন ও প্রচারপত্র তৈরি করেছেন। এসব প্রচারসামগ্রীতে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছবি রয়েছে। তবে তার মৃত্যুর কারণে বাস্তবতা বদলে গেছে।
সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী, কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত হলে তিনি কেবল দলের বর্তমান প্রধানের ছবি ব্যবহার করতে পারবেন। সে ছবিও নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ মেনে ব্যবহার করতে হবে। ফলে বিএনপির প্রার্থীরা এখন কার ছবি ব্যবহার করবেন তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, চেয়ারপারসনের মৃত্যুতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। সেই হিসেবে তারেক রহমান ইতোমধ্যেই বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন। তবে রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা ও কৌশলগত কারণে বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাচনী পোস্টারে দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহারের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন। এ জন্য শিগগিরই কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
দীর্ঘদিন নানা জটিল রোগে ভুগে গত ৩০ ডিসেম্বর সকালে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তার মৃত্যুতে দলটির চেয়ারম্যান পদ শূন্য হয়। বর্তমানে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক শেষে বিএনপি সাত দিনের শোক কর্মসূচি পালন করছে। ৫ জানুয়ারি এ কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।