যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী রক্ষণশীল রাজনৈতিক নেতা, টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএর সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সহযোগী চার্লি কার্ক (বুধবার) ১০ সেপ্টেম্বর ইউটাহ ভ্যালি ইউনিভার্সিটিতে বক্তৃতা দেওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন।
এই ঘটনাটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, “মহান এবং কিংবদন্তি চার্লি কার্ক আর নেই। যুক্তরাষ্ট্রের তরুণদের হৃদয় আর কেউ এত ভালো বুঝতে পারেনি। সবাই তাকে ভালোবাসত, বিশেষ করে আমিও। এখন তিনি আমাদের মাঝে নেই।”
ট্রাম্প ঘোষণা দেন, কার্কের স্মরণে রোববার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।
উটাহ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উটাহ ভ্যালি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এক গুলিতে নিহত হন কার্ক। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, বক্তৃতার সময় হঠাৎ গুলির শব্দ হয়। মুহূর্তেই কার্ক চেয়ার থেকে পড়ে যান এবং আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা দৌড়ে পালান।
উটাহ গভর্নর স্পেন্সার কক্স একে “রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড” আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এটা আমাদের অঙ্গরাজ্যের জন্য অন্ধকার দিন, পুরো জাতির জন্যই এক শোকাবহ দিন”। তিনি জানান, কার্ক শুধু রাজনীতিবিদই ছিলেন না, ছিলেন দুই সন্তানের পিতা ও একজন স্বামী।
ডেমোক্র্যাটরাও এ হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও বারাক ওবামা এক যৌথ বার্তায় বলেন, “আমাদের দেশে এই ধরনের সহিংসতার কোনো জায়গা নেই। এটা এখনই বন্ধ করতে হবে।”
এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল জানান, সন্দেহভাজন হিসেবে একজনকে আটক করা হলেও জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত অব্যাহত আছে এবং ধাপে ধাপে তথ্য প্রকাশ করা হবে।
আল জাজিরা বলছে, এই হত্যাকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতার ধারাবাহিকতার সর্বশেষ উদাহরণ। এর আগে গত বছর ট্রাম্পের ওপর হত্যাচেষ্টা, আর চলতি বছরের জুনে এক ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ও তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছিল।