বাগেরহাটে বিএনপির স্থানীয় নেতা ও সাংবাদিক এ এস এম হায়াত উদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় হাড়িখালি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যার পর হাড়িখালির একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন হায়াত উদ্দিন। এ সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার ওপর হামলা চালায়। তাকে কুপিয়ে হত্যার পর তারা দুটি মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়।
বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহামুদ উল হাসান বলেন, “ঘটনাস্থলের কেউই কিছু দেখেনি বলে জানাচ্ছে। আমরা এখনো কোনো ক্লু পাইনি, তবে তদন্ত চলছে।”
হায়াত উদ্দিন ছিলেন বাগেরহাট পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য ও একটি পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধি। সম্প্রতি তিনি পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচন করে পরাজিত হন। তার বিরুদ্ধে অতীতে মাদক ও চাঁদাবাজির দুটি মামলা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজনের মধ্যে হায়াত উদ্দিন একাধিক গ্রুপে যুক্ত ছিলেন। ফেসবুকে তার কিছু রাজনৈতিক মন্তব্যে দলের একাংশ ক্ষুব্ধ হয়েছিল বলেও স্থানীয়দের ধারণা।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকরাম হোসেন তালিম বলেন, “হায়াত উদ্দিন রাজনীতি ছেড়ে সাংবাদিকতায় মনোযোগ দিয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো সত্য নয়।”
তবে দলের এক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, হায়াত উদ্দিন জেলার একটি সিন্ডিকেটবিরোধী অবস্থান নেওয়ায় ক্ষুব্ধ কিছু প্রভাবশালী নেতা।
এদিকে খুনের ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, পোস্টমর্টেমের পর নিহতের পরিবার আইনি পদক্ষেপ নেবে।
স্থানীয়দের ধারণা, হত্যার সঙ্গে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত কিছু ব্যক্তির সম্পৃক্ততা থাকতে পারে, যদিও জেলা বিএনপি বলছে অভিযুক্তরা এখন আর দলের সঙ্গে সম্পর্কিত নন।