আগে প্লেট জয়ও অর্জন ছিল। কিন্তু সময় বদলেছে। ২০২০ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ের পর আকাশে ওড়ে স্বপ্নের ঘুড়ি। দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠেয় এবারের যুব বিশ্বকাপ ঘিরেও প্রত্যাশা চূড়ান্ত সাফল্য। সেই স্বপ্নসারথিরা কী ভাবছেন? তা নিয়েই এই আয়োজনে আজ ওয়াসি সিদ্দিকীর ভাবনার কথা লিখেছেন বোরহান জাবেদ
নাম
ওয়াসি সিদ্দিকী
জন্মস্থান
সিরাজগঞ্জ
জন্ম তারিখ
৬ নভেম্বর ২০০৬
উচ্চতা
৫ ফুট ৯ ইঞ্চি
পড়াশোনা
এইচএসসি পরীক্ষার্থী
প্লেয়িং রোল
লেগ স্পিনার
প্রিয় ক্রিকেটার
রশিদ খান
যুব ওয়ানডে
ম্যাচ ইনিংস উইকেট সেরা বোলিং ইকোনমি
১৩ ১২ ১২ ৩/৩২ ৫.০১
লিস্ট ‘এ’
ম্যাচ ইনিংস উইকেট সেরা বোলিং ইকোনমি
২ ২ ২ ১/৪৪ ৫.৩৬
ওয়াসি সিদ্দিকীকে দেখে বোঝাই যায় না মাত্র ১৭ বছর বয়সে জীবনের কত কিছু দেখা হয়ে গেছে তাঁর! ঠোঁটে সব সময় একটা হাসি লেগেই থাকে। অথচ এই ছেলেটাই ছোটবেলায় চোখের সামনে বড় ভাইয়ের মৃত্যু দেখেছেন। তখন তিনি মাত্র চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। শাহজাদপুরে গ্রামের বাড়ির পুকুরে ডুবে মারা যান ওয়াসির বড় ভাই।
গাজীপুরের সিনাবহ হাই স্কুলের শিক্ষক শওকত আলী সিদ্দিকীর স্বপ্ন ছিল বড় ছেলেকে ক্রিকেটার বানাবেন।
সেভাবেই সব কিছু চলছিল। কিন্তু হঠাৎ এমন ধাক্কা পুরো পরিবারকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। ভাইকে নিয়ে ওয়াসি বলছিলেন, ‘আব্বু সব সময় চাইতেন তাঁর বড় ছেলে যেন ক্রিকেটার হয়।
সেভাবেই ভাইয়াকে গড়ে তোলা হচ্ছিল। ভাইয়া খুব ভালো ক্রিকেট খেলতেন। তাঁর স্পিন বল খুব ভালো ছিল। তাঁকে ঘিরেই আব্বুর সব পরিকল্পনা ছিল।
’ তবে হাল ছাড়েননি শওকত আলী। স্বপ্নপূরণের মশাল তুলে দেন ছোট ছেলে ওয়াসির হাতে।
আর বাবার স্বপ্নপূরণের জন্য ওয়াসি বেছে নেন ক্রিকেটের সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটিÑলেগ স্পিন। বাংলাদেশের ক্রিকেটে লেগ স্পিনার হওয়ার চেয়ে বিড়ম্বনার আর কিছু নেই। সুযোগ মেলে না খুব একটা।
তার চেয়েও বড় কথা কাউকে আদর্শ মেনে যে এই পথে হাঁটবেন, সেই উদাহরণও নেই। উল্টো পিছু হাঁটার মতো অসংখ্য ছবি আশপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবু কেন লেগ স্পিনার হতে চাইলেন, ওয়াসির মুখেই একটু শোনা যাক, ‘না, শুরুটা কাউকে দেখে ছিল না। এমনিতে আমি ছোটবেলা থেকে লেগ স্পিন করতাম। করতে করতেই হয়ে গেছে। সময়ের সঙ্গে আরেকটা ব্যাপার দেখেছি, বাংলাদেশে ওই রকম লেগ স্পিনার নেই। আমার অনেক দূর যাওয়ার ইচ্ছা।’
সেই ইচ্ছা পূরণের পথ যে কতটা কঠিন, এর মধ্যে কিছুটা আঁচ করতে পারার কথা ওয়াসির। প্রথমবার এশিয়া কাপ জেতা বাংলাদেশ দলের গর্বিত সদস্যদের একজন তিনি। কিন্তু সব মিলিয়ে ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছেন একটি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেই ম্যাচে ৩ উইকেট নেওয়ার পরও টিম কম্বিনেশনের কারণে একাদশে জায়গা মেলেনি। এসব বাস্তবতা ভালোই জানা ওয়াসির, ‘দলে জায়গা অবশ্যই দেবে। তবে আসল কথা হচ্ছে, আমাকে ভালো বোলিং করতে হবে। ভালো না করলে তো নেবে না। এশিয়া কাপের কথা বললে আমার একটুও মন খারাপ হয়নি। আমরা সবাই চেয়েছিলাম দল জিতুক।’
ছোট্ট ক্যারিয়ারে যুব দল, ঘরোয়া ক্রিকেট এমনকি জাতীয় দলের সঙ্গেও পরিচয় হয়ে গেছে ওয়াসির। ভারতে ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের নেট বোলার হিসেবে দেখা গেছে তাঁকে। তখন থেকেই ওয়াসি আলোচনায়। নেটে বোলিং করে কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহের বাহবা কুড়িয়েছেন। সাকিব আল হাসান-মুশফিকুর রহিমরাও সাহস দিয়েছেন। নিজেকে নিয়ে এমন আলোচনা কেমন লাগে? এর উত্তরে এই বয়সেই ওয়াসির পরিণতবোধের একটা ছাপ পাওয়া যায়, ‘সাধারণভাবেই নিচ্ছি। আমি আগেই বলেছি যেহেতু আমাদের দেশে ভালো মানের লেগ স্পিনার নেই, ভালো করলেই আলোচনা হবে।’ এমন আলোচনায় নিশ্চয়ই লম্বা সময় ধরেই থাকতে চাইবেন ওয়াসি।