খুলনা মহানগরীতে একের পর এক খুন, গুলি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জনমনে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। শহরজুড়ে সক্রিয় রয়েছে আশিক, নূর আজিম, হুমা ও গ্রেনেড বাবু—এই চার সন্ত্রাসীচক্র।
গত ৬ অক্টোবর রাতে ২ নম্বর কাস্টমঘাটে গুলি করে হত্যা করা হয় ইমরান মুন্সিকে (৩৫)। পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল পলাশ চক্র, আর নিহত ইমরান ছিলেন গ্রেনেড বাবু চক্রের সদস্য।
একইভাবে ২ নভেম্বর আড়ংঘাটা থানার যোগীপোলে বিএনপি কার্যালয়ে বোমা হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনাতেও সন্দেহের তীর উঠেছে একাধিক চক্রের দিকে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে খুলনা শহরে অন্তত ১২টি সন্ত্রাসীচক্র সক্রিয়, যার মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী চারটি হলো আশিক, নূর আজিম, হুমা ও গ্রেনেড বাবু চক্র।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র বলছে, এসব চক্রের সদস্যরা খুন, গুলি, চাঁদাবাজি, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসাসহ নানা অপরাধে জড়িত। গত ১৪ মাসে খুলনা মহানগরীতে ৩৯টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, ঘটেছে শতাধিক হামলা ও চাঁদাবাজির ঘটনা। ভয় ও প্রভাবের কারণে অনেক ভুক্তভোগী অভিযোগ করতেও সাহস পাচ্ছেন না।
আশিক চক্র
চানমারী এলাকার আশিক ২০১৮ সালে প্রথম হত্যা মামলায় জড়িয়ে পড়ে। তার বিরুদ্ধে ১২টি মামলা রয়েছে। প্রায় ২৫ জন সদস্যবিশিষ্ট এই চক্র মাদক ও অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নূর আজিম চক্র
টুটপাড়ার শেখ নূর আজিম ২০১৬ সালে কিশোর গ্যাং গড়ে তোলেন। তাঁর বিরুদ্ধেও রয়েছে কমপক্ষে ১২টি মামলা। এ চক্রটি অস্ত্রশস্ত্রে সবচেয়ে শক্তিশালী বলে জানা যায়।
হুমা চক্র
দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশার হুমায়ুন কবির হুমা হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি। জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। সম্প্রতি যুবদল নেতা মাহবুবুর রহমান মোল্লা ও যুবলীগ নেতা আরিফ হোসেন হত্যায় এই চক্রের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
গ্রেনেড বাবু চক্র
রনি চৌধুরীর নেতৃত্বে থাকা গ্রেনেড বাবু চক্র দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত। বাবু বর্তমানে পলাতক থাকলেও তার প্রভাব এখনো বজায় আছে।
এ ছাড়া পলাশ চক্রও ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি কারাগারে পলাশ ও গ্রেনেড বাবুর অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
খুলনা মহানগর ডিবির এক কর্মকর্তা জানান, চক্রগুলোর মধ্যে আধিপত্য নিয়ে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে প্রতিনিয়ত খুন ও হামলার ঘটনা ঘটছে। স্থানীয়রা ভয়ে তথ্য দিতেও সাহস পাচ্ছেন না।
খুলনা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান বলেন, “আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সর্বাত্মক অভিযান চালাচ্ছে। নির্বাচনের সময় কেউ যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে দিকেও কঠোর নজর রাখা হচ্ছে।”