চব্বিশের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদসহ সকল শহীদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আজীবন লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার সকালে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের বাবনপুর গ্রামে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন,
“আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে শহীদদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে ন্যায়বিচার, ন্যায্যতা ও জবাবদিহিতাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। জনগণের বিজয় নিশ্চিত করতে যুবসমাজকে প্রস্তুত থাকতে হবে।”
তিনি শহীদ আবু সাঈদের সর্বোচ্চ ত্যাগ, দেশপ্রেম ও সাহসের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তার বাবা মো. মকবুল হোসেনকে বুকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা প্রদান করেন। পাশাপাশি শোকাহত পরিবারের খোঁজখবর নেন।
শহীদের বাড়ির উঠোনে তরুণ ভোটারদের উদ্দেশ্যে জামায়াত আমির বলেন,
“আমি তরুণদের কাছে অঙ্গীকার করছি—তোমাদের প্রত্যাশার বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলব। সমাজের নেতৃত্ব তরুণদের হাতে তুলে দিয়ে আমরা পেছন থেকে শক্তি ও সাহস জোগাব।”
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“তোমাদের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তোমরা যেভাবে ইচ্ছা সেভাবেই ভোট দেবে—তোমাদের ভোটে কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।”
তিনি আরও বলেন,
“এই লক্ষ্যে তরুণদের আবারও ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে প্রস্তুত থাকতে হবে। আমাদের বিশ্বাস, তরুণরাই বিজয় ছিনিয়ে আনবে। এই আন্দোলনের কাজ এখনো শেষ হয়নি।”
এ সময় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, রংপুর-৬ আসনের মনোনীত প্রার্থী মাওলানা নুরুল আমিন, রংপুর-৪ আসনের প্রার্থী ও এনসিপির সদস্য-সচিব আখতার হোসেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগাসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
কবর জিয়ারত শেষে জামায়াত আমির গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর একটি নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিতে সড়কপথে রওনা হন। পরে বগুড়া শহর ও শেরপুর উপজেলায় পৃথক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ শহীদ হন। তার আত্মত্যাগ পরবর্তীতে স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের প্রতীকে পরিণত হয়।