ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় এক স্কুল কমপ্লেক্সের মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন প্রায় ১০০ জন মানুষ। ঘটনায় এক শিক্ষার্থীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার জুমার নামাজের সময় উত্তর জাকার্তায় অবস্থিত ওই স্কুলের মসজিদে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। মুসল্লিরা নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই বিকট শব্দে মসজিদ কেঁপে ওঠে। মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে উপস্থিতদের মধ্যে।
জাতীয় পুলিশপ্রধান লিস্তিয়ো সিগিত প্রাবোও জানিয়েছেন, তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন। সেখানে কিছু লেখা ও গুঁড়ার মতো পদার্থ পাওয়া গেছে, যা বিস্ফোরণের কারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, এ ঘটনায় একজন শিক্ষার্থীকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। ওই শিক্ষার্থী নিজেও বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন। তবে পুলিশ বলছে, একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে—এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তদন্তকারীরা ইতোমধ্যে সন্দেহভাজনের পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন এবং তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কার্যকলাপও পরীক্ষা করছেন।
পুলিশপ্রধান আরো জানান, আহতের সংখ্যা বেড়ে ৯৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ১৪ জন এখনো হাসপাতালে ভর্তি, দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং তারা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রয়েছেন।
বিপর্যয় মোকাবিলা ইউনিট ডেনসুস ৮৮-এর মুখপাত্র মায়ন্দ্রা একা ওয়ারধানা জানিয়েছেন, সন্দেহভাজনের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে। তবে বিস্ফোরণের পেছনের উদ্দেশ্য এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।
এক প্রত্যক্ষদর্শী, ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী কিনজা গাইসান রায়ান বলেন, “প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম এটা কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্রের বিস্ফোরণ—হয়তো সাউন্ড সিস্টেম থেকে এসেছে। কিন্তু পরে দেখা গেল, বিস্ফোরণটা আসলে নামাজের চাটাইয়ের নিচ থেকেই ঘটেছে।”