রাজধানীতে উত্তেজনা চরমে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায়কে ঘিরে কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এলাকায়।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ট্রাইব্যুনালের আশপাশে অবস্থান নিয়েছে সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি, এপিবিএন ও ডিএমপির সদস্যরা। মাজার গেট থেকে শুরু করে সুপ্রিম কোর্ট এলাকা পর্যন্ত নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে গেছে গোটা এলাকা। কোথাও কোথাও দেখা গেছে সাঁজোয়া যান ও টহলরত সেনা সদস্যদের। সাংবাদিক, আইনজীবী ও উপস্থিত সবাইকে তল্লাশি শেষে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, গতকাল রাত থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন হোটেল, মেস ও আবাসিক এলাকায় তল্লাশি চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পাশাপাশি আমিনবাজার, গাবতলী, যাত্রাবাড়ীসহ ঢাকার প্রবেশমুখে বসানো হয়েছে অতিরিক্ত চেকপোস্ট।
এদিকে রায়ের আগের ১২ ঘণ্টায় রাজধানীসহ আশপাশের জেলাগুলোতে অন্তত সাতটি যানবাহনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। পুলিশের দাবি, নাশকতার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এসব ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে আজ রায়ের তারিখ ঘোষণা করবেন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউশনের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী তাদের খালাসের আবেদন জানান।
রায়ের দিনকে ঘিরে সারা দেশজুড়ে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও সেনা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।