নাটোরের লালপুরে মেয়ের সঙ্গে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আরও ভালো ফল করেছেন বাবা আবদুল হান্নান। জিপিএ–৪.৩ পেয়ে পাস করেছেন তিনি, আর তাঁর মেয়ে হালিমা খাতুন পেয়েছেন ৩.৭১। বাবা–মেয়ের এ ভিন্নধর্মী সাফল্য এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
আবদুল হান্নান ও হালিমা খাতুন লালপুর উপজেলার গোপালপুর পৌরসভার নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা। হান্নান রাজশাহীর বাঘা উপজেলার কাকড়ামারি কলেজ থেকে এবং হালিমা লালপুর গোপালপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। এর আগে ২০২৩ সালে তাঁরা একসঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হয়েছিলেন।
হালিমা খাতুন বলেন, “বাবা আগে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছিলেন। হঠাৎ আবার পরীক্ষায় বসার সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদের সবাইকে অবাক করেছিলেন। এবার তিনি আমার চেয়েও ভালো ফল করেছেন। এতে মন খারাপ হয়নি, বরং অনুপ্রাণিত হয়েছি।”
পড়ালেখার প্রতি নিজের আগ্রহের কথা জানিয়ে আবদুল হান্নান বলেন, “অভাবের কারণে স্কুলজীবনে পড়ালেখা থেমে যায়। কিন্তু শিক্ষিত হওয়ার ইচ্ছা কখনো মরে যায়নি। মেয়ের সঙ্গে বসেই পড়েছি, আর সেই পড়াশোনাই আমাকে আজকের এই সাফল্য এনে দিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “চাকরির জন্য নয়, আমি জ্ঞানের জন্য পড়ছি। মাস্টার্স পর্যন্ত পড়তে চাই।”
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রোস্তম আলী হেলালী বলেন, “শিক্ষার কোনো বয়স নেই। আবদুল হান্নান তা প্রমাণ করেছেন। এটি সমাজের জন্য এক ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।”
বাবা ও মেয়ের এই একসঙ্গে পড়াশোনা এবং সাফল্যের গল্প এখন লালপুরে ছড়িয়ে পড়েছে অনুপ্রেরণার বার্তা হয়ে।
সূত্রঃ প্রথম আলো