জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারের বিধান রেখে একটি অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। একই সঙ্গে এ ঘটনায় অংশগ্রহণের অভিযোগে নতুন করে কোনো মামলা, অভিযোগ বা আইনগত কার্যধারা দায়ের করা যাবে না বলেও অধ্যাদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
রোববার রাতে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে অধ্যাদেশটির গেজেট প্রকাশ করা হয়। এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতা ফ্যাসিস্ট শাসনের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সর্বাত্মক গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করে, যা পরবর্তীকালে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এ আন্দোলন চলাকালে ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্দেশে সংঘটিত নির্বিচার হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র আক্রমণ প্রতিরোধ, পাশাপাশি জনশৃঙ্খলা পুনর্বহাল ও নিশ্চিত করতে আত্মরক্ষাসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ অনিবার্য হয়ে ওঠে।
এ প্রেক্ষাপটে গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৬ অনুযায়ী আইনি সুরক্ষা দেওয়া প্রয়োজন উল্লেখ করে অধ্যাদেশটি জারি করা হয়েছে।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা দায়ের করা হলে পাবলিক প্রসিকিউটর বা সরকারনিযুক্ত আইনজীবীর প্রত্যয়নের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন দাখিল করা হবে। আবেদন দাখিলের পর আদালত ওই মামলায় আর কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করবেন না। মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে অব্যাহতি বা খালাস পাবেন।
তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড সংঘটনের অভিযোগ উঠলে তা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে দাখিল করা যাবে। কমিশন অভিযোগ তদন্তের ব্যবস্থা নেবে। তবে যেসব ক্ষেত্রে হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন, সেসব ঘটনায় কমিশন ওই বাহিনী বা প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে বা পূর্বে কর্মরত কোনো কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দিতে পারবে না।
তদন্ত চলাকালে আসামিকে গ্রেপ্তার বা হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজন হলে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে যুক্তিসংগত কারণ উল্লেখ করে কমিশনের অনুমোদন নিতে হবে বলেও অধ্যাদেশে বলা হয়েছে।
কমিশনের তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে, অভিযোগটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অপরাধমূলক অপব্যবহার ছিল, তাহলে কমিশন সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রতিবেদন দেবে এবং আদালত সেটিকে পুলিশ প্রতিবেদন হিসেবে গণ্য করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
অন্যদিকে তদন্তে যদি দেখা যায়, অভিযোগে উল্লিখিত কার্যক্রম রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ ছিল, সেক্ষেত্রে কমিশন উপযুক্ত মনে করলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য সরকারকে নির্দেশ দিতে পারবে। এ ধরনের ক্ষেত্রে আদালতে কোনো মামলা বা অন্য কোনো আইনগত কার্যধারা গ্রহণ করা যাবে না।
অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সরকার প্রয়োজনে বিধি প্রণয়ন করতে পারবে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।